ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনে নিহত শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা অজানাই থেকে যাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:১৮, ১৮ নভেম্বর ২০২২
কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনে নিহত শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা অজানাই থেকে যাবে
ছবি: সংগৃহীত

মরুর দেশ কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন উপলক্ষে স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা কখনই জানা যাবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পায় বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। এরপরই থেকে দেশটিতে আকাশচুম্বী ভবন, হাইওয়ে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, জাদুঘর, একটি নতুন বন্দর, সাতটি নতুন স্টেডিয়াম এবং একটি বন্দর পুনর্নির্মাণ করা হয়। 

অধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিশাল এই নির্মাণ কর্মকাণ্ড চলাকালে হয়তো হাজার হাজার শ্রমিক মারা গেছে। তবে কাতার সরকার এই দাবিকে ‘আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। তারা দেশের সুনাম রক্ষার জন্য ‘আইনি’ পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।

Advertisement

ফিফা ও আন্তর্জাতিক ইউনিয়নগুলো উপসাগরীয় দেশ কাতারকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার উন্নতি, ন্যূনতম মজুরি প্রতিষ্ঠা, কর্মীদের চাকরি পরিবর্তন করার এবং দেশ ছেড়ে যাওয়ার আরও অধিকার দেওয়ার বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেছিল। কিন্তু কাতার তার আধুনিকীকরণের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকায় বিষয়টি কানে তোলেনি। শেষ পর্যন্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইউনিয়ন এবং বিদেশী সরকারগুলির চাপের সম্মুখীন হয় কাতার।

আরো পড়ুন>> বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময় বিমান চলাচল বন্ধ!

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে দাবি করা হয় ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার অন্তত সাড়ে ৬ হাজার কর্মী মারা গেছে।

কাতার সরকার এই প্রতিবেদনকে অসত্য বলে দাবি করেছিল। এমনকি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই সংখ্যাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র গবেষক স্টিভ ককবার্ন বলেছেন, ‘কাতার শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণগুলি পর্যাপ্তভাবে তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই কাতারের প্রচণ্ড গরমে কাজ করার ফলে ঠিক কতজন শ্রমিক মারা গেছে তা জানা খুব কঠিন, তবে সমস্যাটি যে অত্যন্ত গুরুতর তাতে কোন সন্দেহ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ এবং বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট নয় এমন প্রকল্পগুলিতে গত এক দশকে হাজার হাজার শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্য অপ্রকাশিত রয়ে গেছে এবং এর মধ্যে অন্তত শতাধিক অনিরাপদ কাজের পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!