হলিউডের ছবি ২০১২-তে এই জায়গা থেকেই প্রলয়ের সূচনা দেখানো হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যতটা ভাবা হয়েছিল, তারচেয়ে অনেক বেশি লাভা রয়েছে ইয়েলোস্টোন সুপার ভলক্যানোর নিচে।
আন্তর্জাতিক স্তরে বিজ্ঞানীদের একটি দল এই গবেষণা চালিয়েছে, যাতে এর আগামী বিস্ফোরণের বিষয়ে জানা যায়।
.png)
এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-ক্যাম্পেইনের ভূতাত্ত্বিক রস ম্যাগওয়্যার। ইয়েলোস্টোন সুপার আগ্নেয়গিরির নিচের ম্যাগমার সঠিক অনুমান পাওয়ার কথা তিনিই প্রথম ভেবেছিলেন।
আরো পড়ুন>> ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তরুণী, ঘটনাস্থলেই মৃ্ত্যু!
রস ম্যাগওয়্যার বলেন ইয়েলোস্টোনের নীচে একটি বিশাল ম্যাগমা রিজার্ভার রয়েছে। এত বড় পরিসরে থাকা উত্তপ্ত লাভা কবে নির্গত হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এর বিস্ফোরণের তীব্রতা কত হবে, বা এটি কতটা শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। কারণ এই এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে খুবই স্পর্শকাতর।

রস ম্যাগওয়্যার আরো বলেন, মাটির নিচে কী আছে তা খুঁজে বের করা সহজ নয়। আমরা এই গবেষণাটি ২০০০ সালে শুরু করি। ২০১৮ সালে সম্পন্ন হয়েছে। সেই সময়ই আমরা জানতে পারি যে ইয়েলোস্টোন সুপার আগ্নেয়গিরির নীচে গরম লাভার একটি বিশাল উৎস রয়েছে।
ভূমিকম্পের তরঙ্গের পরিবর্তন দেখায় সেখানে কী ধরনের গতিবিধি আছে। সেই তরঙ্গগুলি আসলে গলিত ম্যাগমার প্রবাহ। সবচেয়ে ধীর গতির ম্যাগমা তরঙ্গ ৩ থেকে ৮ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু কোনও টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই গতি বাড়লে সমস্যা বাড়বে।
আরো পড়ুন>> অসহনীয় তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হবে ভারত: বিশ্বব্যাংক
এই মুহূর্তে লাভার গলে যাওয়ার হার ১৬ থেকে ২০ শতাংশ। কিন্তু যদি তা ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ইয়েলোস্টোন সুপারভলক্যানোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে যেকোনও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পেছনে অনেক কারণ থাকে। গলিত লাভার সঞ্চয়, প্রবাহ এবং দিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইয়েলোস্টোন সুপার আগ্নেয়গিরিটি গত ২১ মিলিয়ন বছরে ভয়ানক তীব্রতার সঙ্গে তিনবার বিস্ফোরিত হয়েছে।
রস বলেন, কখন এটি বিস্ফোরিত হবে তা বলা কঠিন। কিন্তু যখনই তা ঘটবে, তখনই হবে ভয়াবহ। আমেরিকায় বিরাট ধ্বংসলীলা ডেকে আনতে পারে। এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী সমুদ্র এলাকাতেও দেখা যায়।
আরো পড়ুন>> ট্রেনের আসন হেলানোয় বড় অঙ্কের জরিমানা দিলেন যাত্রী!
পূর্বে এতে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল তা ৬ লক্ষ ৪০ হাজার বছর আগে হ। এর পর ৭০ হাজার বছর আগে আরো একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল, যা কালডেরার ভিতরে সীমাবদ্ধ ছিল।
এই আগ্নেয়গিরির চারপাশে প্রতি বছর গড়ে ১০০০ থেকে ২০০০ ভূমিকম্প হয়, যা পরিমাপ করা যায়। বেশিরভাগেরই তীব্রতা ৩ এর কম। এটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ জিওলজিক্যাল সায়েন্সের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানে অনেক গরম জলের পুকুর এবং প্রাকৃতিক ঝরনা রয়েছে। যা নিচের উত্তপ্ত লাভার কারণে গরম থাকে।
সূত্র: আজতাক নিউজ