নারীদের হিজাব খুলে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করলে কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আলি জামাদি শনিবার এমন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা এ ধরনের কাজ করবে, তাদের বিচার করা হবে আদালতে। এ ছাড়া এ অভিযোগে যারা শাস্তি পাবেন, তারা শাস্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপিল করার সুযোগও পাবেন না।
তিনি এমন সময় এ হুশিয়ারি দিলেন, যখন ইরানে দিনে দিনে নারীদের মধ্যে হিজাব ছাড়াই বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শপিংমল, রেস্তোরাঁ, দোকান, রাস্তা এবং অন্যান্য পাবলিক এরিয়াগুলোতে হিজাব ছাড়া অসংখ্য নারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
.png)
ইরানের নারী অধিকারকর্মী ও তারকারা কয়েক দিন ধরে হিজাব ছাড়াই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে মূলত হিজাব না পরতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করছেন তারা।
আরো পড়ুন>> ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় দোনেৎস্কে নিহত ১, আহত ৬
এসব তারকা ও নারী অধিকারকর্মীদের আকার-ইঙ্গিতে হুশিয়ারি দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আলি জামাদি বলেছেন, ‘হিজাব খুলে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করার অপরাধের বিচার করা হবে অপরাধ আদালতে। এই আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, হিজাব খুলে ফেলার চেয়ে হিজাব খুলে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করার অপরাধের সাজা আরো কঠিন হবে। কারণ এটি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অন্যতম পরিষ্কার উদাহরণ। তবে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানাননি তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মাহসা আমিনি নামে এক কুর্দি তরুণী হিজাব ইস্যু নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। এর পর পুলিশ হেফাজতেই মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর পুরো ইরানজুড়ে হিজাববিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: রয়টার্স