ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের তীব্র সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২১, ২৯ এপ্রিল ২০২৩
জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের তীব্র সমালোচনা
ফাইল ছবি

মিয়ানমারের জান্তা সরকার এই পর্যন্ত দেশটিতে ব্যাপক আমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে। দেশটিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগে বাধ্য করে তৎকালীন মিয়ানমার সরকার। এর আগেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম অত্যাচার চালায় মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দিতে এবং বর্তমান সরকারকে যাবতীয় সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ। 

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘ইউক্রেনে আগ্রাসনের জেরে জাপান রাশিয়ার ওপর যেমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তেমনি মিয়ানমারের ওপরও (জাপানের) নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। পাশপাশি জান্তার জন্য আর অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রদান করা উচিত।’

Advertisement

একটি সামরিক চুক্তি অনুসারে প্রতি বছর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কিছু বাছাইকৃত সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয় জাপান। প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করে জাপান নিজেই। শুক্রবারের বিবৃতিতে এই চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন রিচার্ড অ্যান্ড্রুজ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা জাপানের সহায়তায় সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং শিখছে কী করে দক্ষ সৈনিক ও কমান্ডার হওয়া যায়; তারপর এই প্রশিক্ষিত সেনারা সেই সেনাবাহিনীতে ফিরবে, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধপরাধে দায়ী। যতদিন জাপান এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ না করবে, ততদিন তারা বর্বর সামরিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সঙ্গে জাপানের মিত্রতা দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত জাপান ছিল মিয়ানমারের প্রধান আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী ও বিনিয়োগকারী দেশ। অভ্যুত্থানের পর সেই সহায়তার প্রবাহ সংকুচিত হলেও একেবারে বন্ধ হয়নি।

আরো পড়ুন>> এবার রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ড্রোন হামলা

২০১৭ সালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা করার অভিযোগ ওঠে সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে। সেই হামলার জের ধরে বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হামলা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতেই ২০১৭ সালে এই গণহত্যা চালানো হয়েছিল।

এদিকে, সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাচ্ছিল— সে সময় মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসীন ছিল গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক এনএলডি সরকার; কিন্তু সুচি বা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো প্রতিনিধি সেনাবাহিনীকে এই অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়ে একটি কথাও বলেননি।

উল্লেখ্য, সুচি ও তার সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারটি ঝুলে যায়। প্রায় ৫ বছর এই অবস্থা চলার পর ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের নেতৃত্বে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী এনএলডি সরকারকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় সুচি ও তার দল এনএলডির শীর্ষ ও মধ্যম সারির সব নেতাকে। সম্প্রতি সুচির রাজনৈতিক দল এনলডিকে বিলুপ্ত বলেও ঘোষণা করেছে জান্তা সরকার।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!