ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মনিপুর রাজ্যে আকাশপথে নজরদারি করবে সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ৭ মে ২০২৩
মনিপুর রাজ্যে আকাশপথে নজরদারি করবে সেনাবাহিনী
সংগৃহীত

কিছু দিন ধরে ভারতের মণিপুর রাজ্যে চলছে ব্যাপক অস্থিরতা। এর আগে মণিপুরে মেতিস গোষ্ঠীকে স্কেজিউলড ট্রাইবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। সেই রায়কে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের মণিপুর রাজ্য।

এই অবস্থায় নতুন করে আকাশপথে নজরদারির পরিকল্পনা করছে সেনাবাহিনী। রাজ্যের সহিংসতাপ্রবণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি চালাতে মানববিহীন ড্রোন নামানোরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইম্ফল, চূড়াচাঁদপুরসহ উপদ্রুত অঞ্চলের অলিগলিতে টহল চালিয়ে যাচ্ছেন আধা সামরিক বাহিনী এবং আসাম রাইফেলসের কর্মকর্তারা।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মনিপুরের উপত্যকা অঞ্চলে বসবাস করা কিছু বিদ্রোহীগোষ্ঠী উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে প্রধান অন্তরায়। তাই তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো প্রয়োজন। মনিপুরের উপত্যকা অঞ্চলগুলো পাহাড় দিয়ে ঘেরা থাকায় সেখানে স্থলপথে নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনীর ওই সূত্র। 

Advertisement

অন্যদিকে রবিবার সকালে মনিপুরের চূড়াচাঁদপুরে তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ তুলেছে সরকার। রবিবার সকালে এই তিন ঘণ্টা সাধারণ মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবে। নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের সুযোগ প্রদানের জন্য সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন>> বাখমুত দখলে চেচেন সেনা মোতায়েনের আহ্বান ওয়াগনারের

তা ছাড়া রাজ্য লাগোয়া মিয়ানমার সীমান্ত দিয়েও যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে চাইছে সেনাবাহিনী।

মনিপুর সহিংসতার জেরে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার থেকে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে অশান্তি চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথাও কোথাও কারফিও জারি করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের একাংশে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও।

বুধবার রাতে এই চূড়াচাঁদপুরেই সহিংসতার সূত্রপাত। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতি (এসটি) তকমার দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের দাবির বিরোধিতা করে মনিপুরি ছাত্রসংগঠন অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব মনিপুরের (এটিএসইউএম) পক্ষ থেকে বুধবার একটি মিছিল বের করা হয়েছিল। সেখান থেকেই সংঘাতের সূচনা। যা ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় পরিস্থিতি প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে যায়।

পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সহিংসতা থামাতে পারেনি। ইম্ফলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে প্রাণের ভয়ে মনিপুর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হবে রাজ্যের সাধারণ জনগণ

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!