শরণার্থীদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কিলিচদারোগলুর
নির্বাচনে জিতলে ১০ লাখ শরণার্থীকে তাড়িয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তুরস্কের বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কামাল কিলিচদারোগলু।
গত ১৪ মে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি। আর তাই আগামী ২৮ তারিখ দ্বিতীয় দফা ভোট হতে যাচ্ছে।
প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।
.png)
অতিরিক্ত ১০ লাখ অনিয়মিত ‘অভিবাসী’ দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় সরকারকে অভিযুক্ত করে বুধবার উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন বিরোধী ছয়টি দলের জোটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কামাল কিলিচদারোগলু।
আরো পড়ুন>> ৩৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো ১১শ বছর পুরোনো হিব্রু বাইবেল
এই অর্থনীতিবিদ ও দীর্ঘদিনের আমলা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ৮৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৩০ মিলিয়ন পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এই অঙ্কের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) কিলিচদারোগলু বলেছেন, এরদোগান তুরস্কের সীমান্ত ও সম্মান রক্ষা করেননি।
তিনি বলেন, জেনেশুনে আপনি ১০ মিলিয়ন শরণার্থী এনেছেন। আমি এখানে ঘোষণা করছি, শিগগিরই ক্ষমতায় এসে সব শরণার্থীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেব।
২০১১ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তার শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিদ্রোহ দমন করতে শুরু করলে এবং এর ফলে যুদ্ধ শুরু হলে সে দেশের নাগরিকরা তুরস্কে পালাতে থাকেন।
আরো পড়ুন>> মহাকাশে প্রথম নারী নভোচারী পাঠাচ্ছে সৌদি আরব
সিরিয়ার শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নিয়েছে তুরস্ক। প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন দেশটিতে নিবন্ধিত।
শুরুতে তুরস্ক শরণার্থীদের স্বাগত জানালেও এখন দেশটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রা লিরার দাম কমে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। সিরিয়া এবং অন্যান্য দেশের শরণার্থী ও অভিবাসীদের কারণে দেশটির জনগণ ক্ষুব্ধ।
শরণার্থীদের স্বাগত জানানো এবং অর্থনৈতিক সংকট সরকারকে আক্রমণের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদীদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কিলিচদারোগলুর শরণার্থী নিয়ে মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা