২০০৩ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল এনএইচপিসি। সেই কাজ শেষ হতে সময় লেগেছে ২০ বছর। ২৬০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ গিগাওয়াট।
এনএইচপিসির অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক রাজেন্দ্র প্রসাদ গয়াল জানান, অরুণাচল ও আসামে মোট আটটি ইউনিটে চলবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তারা আশা করছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটটি কেন্দ্রীয় সরকারের কমিশনভুক্ত হবে, আর বাকি ইউনিটগুলো কমিশনভুক্ত হবে ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে।
.png)
বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো ভারতও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চলমান আছে সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। দিন দিন এসব প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণও বাড়ছে।
জলবিদ্যুৎপ্রকল্প এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কিন্তু এই মেগা প্রকল্পটি নির্মাণ করতে যেয়ে এনএইচপিসিকে পরিবেশকর্মীদের লাগাতার আন্দোলন ও মামলার মুখে পড়তে হয়েছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ— এই প্রকল্প সুবানসিরি নদী ও তার আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের জন্য বিধ্বংসী হয়ে উঠবে।
এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও মামলার কারণে একদিকে যেমন প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রিতা এসেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ব্যয়ও। দীর্ঘ আট বছর প্রকল্পের কাজ স্থগিত থাকার পর ভারতের পরিবেশভিত্তিক বিশেষায়িত আদালত দ্য ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০১৯ সাল থেকে ফের শুরু হয় প্রকল্পের কাজ।
রাজেন্দ্রপ্রসাদ গয়াল বলেন, ‘সুবানসিড়ি প্রকল্পের কাজ ফের শুরু করার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় ও অরুণাচলের রাজ্য সরকারের প্রায় ৪০টি বিভিন্ন বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হয়েছে আমাদের। আশা করছি, এখন আর নতুন কোনো প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে না।’
তিনি আরো জানান, অরুণাচল প্রদেশের দিবাং উপত্যকায় আরও একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে এনএইচপিসি। প্রস্তাবিত সেই প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ দশমিক ৯ গিগাবাইট।
তিনি বলেন, ‘যদি দিবাং প্রকল্পটি আমরা নির্মাণ করতে পারি, সেক্ষেত্রে সেটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।’
অরুণাচল প্রদেশ ও কাশ্মিরের লাদাখ অঞ্চল নিয়ে চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব রয়েছে ভারতের। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিস শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এই দুই অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন।
সূত্র: এনডিটিভি