জানা গেছে, ঐ গ্রামের এক জ্যোতিষ কয়েকজন বাসিন্দাকে জানান তাদের গ্রামে একজন ডাইনি রয়েছে। এরপরই বাসিন্দারা গ্রামে ফিরে এসে প্রায় ৭০ বছরের ঐ আদিবাসী নারী ও তার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। ঐ নারীর মাথার চুল ও চামড়া ধারালো ব্লেড দিয়ে কাটার পরে তাদেরকে শুইয়ে তাদের বুকের ওপরে বসে তাদের নাক টিপে ধরে মল, মূত্র খাওয়ানো হয়।
এখানেই অত্যাচারের শেষ নয়। বিষাক্ত কাঁটার উপর তাদের প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় বসতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে অমানবিক অত্যাচারের পরে তাদের কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করা হয়।
.png)
এই ঘটনার কথা জানতে পেরে ঐ বৃদ্ধা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান ভারত জাকাত পরগণা মহল নামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সংগঠনের কর্তা ব্যক্তিরা।
নির্যাতনের শিকার ঐ নারী বলেন, ডাইনি অপবাদ দিয়ে আমাকে ও মেয়েকে খুব মারধরের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মল মূত্র জোর করে খাওয়ালো। আমাকে এমন মারল আমি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। আমার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিলো। আমি চাই ওদের চরম শাস্তি হোক।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা লেবু হেমব্রম বলেন, এক শ্রেণির তান্ত্রিকরা ডাইনি বলে গ্রামের মানুষদের উসকে দিয়ে এই কুসংস্কারকে বাঁচিয়ে রাখছেন। অমানবিক অত্যাচার হয়েছে এ বৃদ্ধা নারী ও তার পরিবারের ওপর। মারধরের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঘরছাড়া, গ্রামছাড়া করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এসেছি সুবিচারের জন্য। দোষীরা শাস্তি না পেলে আমরা তীব্র আন্দোলনে নামবো।