শনিবার (৫ আগস্ট) বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্ত এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ চলে। এতে আরো অন্তত ২০ জন আহত হন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার সেখানে আধা-সামরিক বাহিনীর আরো ৯০০ সদস্য মোতায়েন করেছে। সব মিলে গত ৩ মে থেকে এই রাজ্যে ৪০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে দিল্লি সরকার।
.png)
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সবশেষ আরো ১০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবির সদস্য। সব মিলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজারের বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাবা ও ছেলে রয়েছেন। শনিবারে শুরু হওয়া সহিংসতা রোববারও অব্যাহত ছিল। কয়েক সপ্তাহ মোটামুটি শান্ত থাকার পর ফের সহিংসতা বাড়াতে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে প্রশাসন। কেন্দ্র সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের নেতারা।
সহিংসতা প্রতিরোধে দেশটির সেনাবাহিনী ওই এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। গুলিতে আহত অন্তত একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
মণিপুরে সর্বশেষ এই জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন ছিল শনিবার। শনিবার দুপুরের দিকে উত্তেজনা ছড়ায় ইম্ফল পূর্বের চেকন এলাকায় একটি বড় বাণিজ্যিক ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইম্ফল পশ্চিম জেলার লাংগল গ্রামে ঢুকে ১৫টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারীরা। গুলিও ছোড়ে তারা। বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্ত এলাকায় সারাদিন ধরে উভয় পক্ষ মর্টার ও গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। সেইসঙ্গে দিনভর চলেছে ভারি গোলাগুলি।স্থানীয় মেইতেই এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলে। আগ্নেয়াস্ত্র লুণ্ঠিত অস্ত্রাগার থেকেই আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় প্রচুর পুলিশ এবং আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্য এবং দক্ষিণ মণিপুরে পরিস্থিতি আবার প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেটও।
গত ৩ মে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর মণিপুর রাজ্যে পুলিশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায় এবং ছিনিয়ে নেয় অন্তত চার হাজারের বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ।