এক প্রবন্ধে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচার জার্নাল জানিয়েছে, গবেষকেরা মাতৃগর্ভের মতো কৃত্রিম গর্ভাশয় তৈরি করেছেন। আর এর মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে রাখা হবে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা অপরিপূর্ণ শিশুদের। কৃত্রিম এসব গর্ভাশয়ে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে নবজাতক। মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়ার পর তাদের দ্বিতীয় জন্ম হতে যাচ্ছে এমনসব কৃত্রিম গর্ভাশয় থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভিনিয়ার চিল্ড্রেনস হসপিটাল অফ ফিলাডেলফিয়ায় এমন একটি কৃত্রিম গর্ভাশয়ে এমনভাবে বেড়ে উঠছে একটি ভেড়ার শাবক। এটি হচ্ছে কৃত্রিম গর্ভাশয় থেকে জন্ম নেয়া অষ্টম ভেড়া শাবক।
.png)
এ বছরের এপ্রিলে তারা এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায় শাবকটি এক ধরনের তরলের ভেতরে খানিকটা নড়াচড়া করছে। এর চার পাও নড়ছে।
এই গবেষকরা এখন অপরিপক্ক মানবশিশুকে পরীক্ষামূলকভাবে এমন কৃত্রিম গর্ভাশয়ে রাখবেন। এর নাম রাখা হয়েছে এক্সট্রা উটেরাইন এনভায়রনমেন্ট ফর নিউবর্ন ডেভেলপমেন্ট বা এক্সটেন্ড। তারা জানিয়েছেন গর্ভধারণের শুরু থেকে এমন গর্ভাশয়ে রাখা যাবে না। শুধুমাত্র ২৮ সপ্তাহ বা এর কিছু কম-বেশি বয়সী নবজাতকের জন্য এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব শিশু মাতৃগর্ভে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় পার করেছে তাদের জন্যেই হচ্ছে এমন কৃত্রিম গর্ভাশয়।
অনেকটা গোলাকার প্লাস্টিকের বলের মতো দেখতে এই কৃত্রিম জরায়ুর ভেতরে থাকবে অপরিণত শিশুটি, তার সাথে জুড়ে দেয়া পাইপ দিয়ে তার জন্য আসবে অতিপ্রয়োজনীয় রক্ত ও অন্যান্য তরল। ঠিক মায়ের গর্ভের মতোই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে সেখানে।
বিশ্বব্যাপী এখনো নবজাতকের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ অপরিণত শিশু জন্ম। মানবশিশুর জন্যে শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে এই গর্ভাশয়ের যাত্রা।