ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত বেড়ে ৩৫০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ৮ অক্টোবর ২০২৩
হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত বেড়ে ৩৫০
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ৪৪ সেনাসহ অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। এছাড়া আহত হয়েছে আরো এক হাজার ৮৫৪ জন।

শনিবার (৭ অক্টোবর) দীর্ঘ দিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে হামাসের প্রায় ১ হাজার যোদ্ধা ইসরায়েলে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে তারা হামলা চালানো শুরু করেন। আকস্মিক এই অভিযানকে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নাম দিয়েছে হামাস।

মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গতকাল ভোর থেকে এই অভিযানটি শুরু করা হয়।

Advertisement

ফিলিস্তিনি এ গোষ্ঠীর হামলায় প্রথমে ২৬ সেনা নিহতের তথ্য জানিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে রোববার ইসরায়েল সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাসের হামলায় ৪৪ সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ সদস্য নিহত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা পুলিশ, সীমান্তরক্ষী এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী ইয়ামামের সদস্য ছিলেন।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীও ৪৪ জন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) নিহতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে বাহিনীটি। তারা জানিয়েছে, নিহত সেনাদের পরিবারকে তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এখনো অনেক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হামাসের সদস্যরা বেশ কয়েকজনকে আটক করে গাজায় নিয়ে গেছেন। সেখানে তারা কি অবস্থায় আছে সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

অপরদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

এদিকে, রোববার আরো ফিলিস্তিনি যোদ্ধা দক্ষিণ ইসরায়েলের মাগেন শহরে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো। ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ট্যাংক ব্যবহার করে বড় যুদ্ধ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পাল্টা বন্দুক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যোদ্ধরা।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, সীমান্তের অন্তত ২২টি পয়েন্ট দিয়ে দক্ষিণ ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে হামাসের যোদ্ধারা। গাজা সীমান্ত থেকে ১৫ মাইল দূরের শহরেও পৌঁছে যায় তারা। কিছু কিছু জায়গায় কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে হামাস সদস্যরা। ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে শনিবার রাতেও তাদের লড়াই চলছিল।

আবার রোববার অধিকৃত সেদরত শহরের ইসরায়েলি বসতি লক্ষ্য করে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হামাস। নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ তথ্য জানায় হামাসের সশস্ত্র শাখা, আল-কাসাম ব্রিগেড। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাকে হতাহতের তথ্য জানা যায়নি।

হামাসের হামলার পর লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বসতি ও সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল অধিকৃত লেবাননের শেবা ফার্মসের তিনটি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এ হামলায় বিপুল পরিমাণ কামানের গোলা ও গাইডেড (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিন সকালে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, অধিকৃত শেবা ফার্মস অঞ্চলে রকেট ও গোলা হামলা চালিয়েছি আমরা। শেবা ফার্মস দক্ষিণ লেবাননের ইসরায়েল অধিকৃত একটি অঞ্চল, যা ইসরায়েলের উত্তরে অবস্থিত।

জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাদের তিনটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। অধিকৃত ভূমি উদ্ধার ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!