এছাড়া ইসলামিক জিহাদের রকেটের আঘাতে আল-আহলি হাসপাতাল বিস্ফোরণ হয়েছে— এমন দাবির পক্ষে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি ভিডিওর প্রসঙ্গও টানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
তবে ওই হাসপাতালে হামলা নিয়ে যে ইসরায়েল মিথ্যাচার করেছে সেটি উঠে এসেছে আল-জাজিরার ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন টিমের একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে। তারা দেখিয়েছে, গাজার ওই হাসপাতালে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট আঘাত হানেনি। বরং ভয়াবহ বিস্ফোরণে হাসপাতালটি কেঁপে ওঠার আগে গাজায় বিমান হামলা চালাচ্ছিল ইসরায়েল।
.png)
ভিডিওর শুরুতে হামলার পরবর্তী চিত্র দেখানো হচ্ছিল। এরপর হামলার দায় অস্বীকার ও ইসলামিক জিহাদের উপর দায় চাপিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর করা একটি পোস্ট ভিডিওটিতে তুলে ধরা হয়।
এরপর ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার বক্তব্য দেখানো হয়। যেখানে তিনি দাবি করেন, আল-জাজিরার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওটিতেই উঠে এসেছে ইসলামিক জিহাদের রকেট বিস্ফোরিত হয়ে হাসপাতালে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
তার সেই দাবি যে মিথ্যা ছিল সেটি প্রমাণে আল-জাজিরা তাদের নিজস্ব (সরাসরি সম্প্রচারিত) ভিডিওটি সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে।
এতে দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গাজার ওই হাসপাতালের আশপাশে বিমান হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েল। এরপর ৬টা ৪৮ পর্যন্ত চার জায়গায় বোমা ফেলে তারা।
ওই একই সময়ে ইসরায়েল থেকে ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে। কিন্তু সেসব রকেটের সবগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলের আয়রন ডোম।
এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট ৪৯ দশমিক ৩৫ সেকেন্ডের সময় গাজা থেকে আরেকটি রকেট ছোড়া হয়। আর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, এই রকেটটিই হাসাপাতালে আছড়ে পড়েছে। কিন্তু ৬টা ৪৫ দশমিক ৫০ সেকেন্ডের সময় সেই রকেটটিও ধ্বংস করে দেয় আয়রন ডোম। যা ইসরায়েল থেকে ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
এমনকি ইসরায়েলের আয়রন ডোমের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই রকেটটি আকাশেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
এই রকেটটি ধ্বংস করার ৫ সেকেন্ড পর গাজায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর চালানো একটি হামলা ধরা পড়ে। এর ঠিক ২ সেকেন্ড পর বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ওই হাসপাতালটি।
আল-জাজিরা ওই ভিডিওটির শেষে বলেছে, হাসপাতালে ইসলামিক জিহাদের রকেট বিস্ফোরণ হওয়ার যে দাবি ইসরায়েল করেছে, এটির কোনো সত্যতাই নেই।
এদিকে আল-আহলি হাসপাতালে চালানো সেই ভয়াবহ হামলায় একসঙ্গে ৫০০ মানুষ নিহত হন। যাদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ওই হাসপাতালের পাশে জড়ো হয়েছিলেন।