শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক বিবৃতিতে মেয়ার্স্ক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মেয়ার্স্ক জিব্রাল্টার অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর এবং আজ একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে হামলার পর, আমরা মেয়ার্স্কের সব জাহাজকে (ইয়েমেনের উপকূলবর্তী) বাব-আল-মান্দাবের দিকে তাদের যাত্রা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।
.png)
এছাড়া জার্মানির কনটেইনার পরিবহন সংস্থা হাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, লোহিত সাগর দিয়ে তারা তাদের জাহাজ চালাবে কি না সে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী মেয়ার্স্ক জিব্রাল্টা কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার চালায় হুতি বিদ্রোহীরা।
হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মেয়ার্স্ক জিব্রাল্টা নামে একটি কন্টেইনার জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। একটি ড্রোন সরাসরি জাহাজটিতে আঘাত হানে, এতে জাহাজটির ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার হাপাগ-লয়েডের একটি জাহাজ লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার শিকার হয়েছে। এদিন আরো একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে একটি জাহাজে আগুন ধরে যায়।
একদিনে দু’টি জাহাজে হামলা চালানোর পর হুতিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এগুলো ইসরায়েলে যাচ্ছিল।
ইরানপন্থি এ গোষ্ঠীটি আরো জানিয়েছে, তাদের উপকূল দিয়ে ‘ইসরায়েলগামী ছাড়া’ বিশ্বের যে কোনো দেশের, যে কোনো বন্দরের জাহাজ যেতে পারবে।
সম্প্রতি হুতিরা সতর্ক করে জানিয়েছিল, আরব ও লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী যে কোনো জাহাজ তাদের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে গণ্য হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইয়েমেনের উপকূলে লোহিত সাগরে ‘স্ট্রিনডা’ নামের একটি নরওয়েজিয়ান পতাকাবাহী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এ ছাড়া গত মাসে একটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজও জব্দ করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। জাহাজটির একটি ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হামাসকে সর্মথন জানিয়ে ইয়েমেন উপকূলে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনের জাহাজগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান-সর্মথিত হুতিরা। আরব রাষ্ট্রগুলোর মতো শুধু কথায় নয় বরং সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে এ গোষ্ঠীটি।
উল্লেখ্য, ‘অশ্রুর দরজা’ নামে পরিচিত ২০ মাইল প্রস্থের বাব আল-মান্দাব প্রণালীটি আরব উপদ্বীপে ইয়েমেন এবং আফ্রিকার উপকূলে জিবুতি এবং ইরিত্রিয়ার মধ্যে অবস্থিত। এটি সেই পথ যা দিয়ে জাহাজগুলো দক্ষিণ থেকে সুয়েজ খালে পৌঁছাতে পারে, ফলে এটি নিজেই একটি প্রধান শিপিং লেনে পরিণত হয়েছে। এটি এড়ানোর অর্থ হল জাহাজগুলোকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরতে হবে। প্রতি বছর প্রায় ১৭ হাজার জাহাজ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে যাত্রা করে।