ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ফিলিস্তিনিদের মরদেহ থেকে অঙ্গ চুরি করছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:২২, ২ জানুয়ারি ২০২৪
ফিলিস্তিনিদের মরদেহ থেকে অঙ্গ চুরি করছে ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের নাগরিক মুহাম্মদ ইলিয়ানকে নিজের ২২ বছর বয়সী ছেলে বাহা ইলিয়ানের মরদেহ পেতে প্রায় একবছর অপেক্ষা করতে হয়। ৩২৫ দিন মর্গের হিমাগারে রাখার পর ২০১৬ সালে ইসরায়েলি সরকার বাহার মরদেহকে ছাড়পত্র দেয়। তবে বাহার মৃতদেহ পেতে শোকাহত পরিবারকে ২০ হাজার ইসরায়েলি শেকেল (মুক্তিপণ হিসেবে) গুনতে হয়েছিল এবং নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে এটি শুধুমাত্র ইসরায়েলি পুলিশের নির্বাচিত একটি কবরস্থানে দাফন করা যাবে এবং জানাজায় মাত্র ১২ জন লোক উপস্থিত থাকতে পারবেন।

মুহাম্মদ ইলিয়ান বলেন, তার ছেলের নিথর দেহ প্রায় এক বছর শাসনগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত মর্গে হিমায়িত করে রাখার কারণে মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গেছে।

২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩০টির বেশি নিহত ফিলিস্তিনির দেহ ইসরায়েলি বাহিনী মর্গে রেখে দেয়। বিকৃত এসব দেহ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সেগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতঙ্গ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

Advertisement

গত অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং তাদের কারো কারো বিকৃত ও অঙ্গপ্রতঙ্গহীন দেহ দেখে ফের ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ানক অপরাধের সেই পুরোনো অভিযোগ গণমাধ্যমে ওঠে আসে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন বর্বরতা ও নৃশংসতার শিকার হচ্ছে অপেক্ষাকৃত যুবকদের মৃতদেহ। অভিযোগ রয়েছে, এসব মৃতদেহ ইসরায়েলে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্যে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অনেক অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয় দেশটির নাগরিকদের শরীরে।  

গত ২৬ ডিসেম্বর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনিদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরির অভিযোগ করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

এক বিবৃতিতে উপত্যকাটির সরকারি প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, পরীক্ষা করে দেখা গেছে মৃতদেহ থেকে অনেক অঙ্গ চুরির কারণে মৃতদেহগুলো ভয়ানকভাবে বিকৃত হয়ে গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী নাম-পরিচয় ছাড়াও কিছু মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে। তাছাড়া কোথা থেকে বা কবে এ মানুষগুলো নিহত হয়েছে এ বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি ইসরাইলি বাহিনী।

গাজা কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ইসরাইলি বাহিনী কয়েক সপ্তাহ আগে চলমান যুদ্ধের সময় এ ধরনের কাজ করেছে। সেই সময় কবরস্থান থেকে মৃতদেহ তুলে বর্বরতা চালিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীটি।

ওই বিবৃতিতে (ইসরায়েলি) দখলদার বাহিনীর এমন জঘন্য অপরাধের প্রতি রেডক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটিসহ গাজায় কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরব অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ। তবে তেলআবিব কর্তৃপক্ষ এখনও অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

সূত্র: প্রেসটিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!