সোমবার (১৩ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
জেক সুলিভান বলেন, তবে ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় আরো সচেষ্ট হতে হবে।
.png)
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মধ্যেই একমাত্র নিরাপদ স্থান বলে বিবেচিত রাফাহ শহরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বর্বর ইহুদি সেনারা। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার সব দায়দায়িত্ব এখন হামাসের কাঁধে।
সংবাদ সম্মেলনে জেক সুলিভান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ইসরায়েলের তরফ থেকে আরো অনেক কিছু করার আছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি না যে, গাজায় যা ঘটছে (ইসরায়েল ঘটাচ্ছে) তা কোনোভাবে গণহত্যা।’
এ সময় জেক সুলিভান জানান, কোনো হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তা ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্র এই মূল্যায়নে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরো জানান, বাইডেন হামাসকে পরাজিত দেখতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন যে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকেরা এক ‘নারকীয়’ অবস্থার মধ্যে আছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম গাজায় পারমাণবিক বোমা ফেলতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পার্ল হারবারে হামলার পর জাতি হিসেবে আমরা যখন জার্মানি ও জাপানের মোকাবিলায় ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছিলাম, তখন আমরা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা ফেলে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
মার্কিন এই সিনেটর আরো বলেন, ‘তাই ইসরায়েলকে (পারমাণবিক) বোমা দেওয়া উচিত, যাতে তারা এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তারা (ইসরায়েল) এখানে হারতে পারে না।’
লিন্ডসে গ্রাহাম ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সুতরাং ইসরায়েল, ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্য যা কিছু করতে হয়, তা তোমরা করো। তোমাকে করতে হবে।’
সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম গাজায় বেসামরিক প্রাণহানির জন্য হামাসকেই দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামাস বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত হামাস তাদের নিজ জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে ততক্ষণ গাজায় বেসামরিক মৃত্যু কমানো অসম্ভব।’
সূত্র: আরব নিউজ