জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান সফর করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসানের লক্ষ্যে কাজাখস্তান রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার পক্ষে প্রশ্ন করলেও জার্মানি ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও কোনো শিথিলতা চায় না জার্মানি।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানে অভিবাসনসহ একাধিক বিষয়ে বোঝাপড়ার পর শোলৎজ সোমবার কাজাখস্তান সফর করেন। রাজধানী আস্তানায় কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকাইয়েভের সঙ্গে আলোচনায় পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়ে কথা বলেন শোলৎজ।
.png)
উল্লেখ্য, বর্তমানে নরওয়ে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর কাজাখস্তানই জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী দেশ। ২০২৪ সালের শেষে সেই সরবরাহের পরিমাণ আরো বাড়াতে চলেছে সে দেশ।
তোকাইয়েভ বলেন, শলৎসের সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তিনি কৌশলগত সহযোগিতার পূর্বাভাস দেন।
রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণেও বিশ্বের নবম বৃহত্তম দেশ কাজাখস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইদানীংকালে আরো বেড়ে গেছে। সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভাণ্ডারের সুবিধা নিতে চাইছে অনেক দেশ। জার্মানিও পেট্রোলিয়ামের পাশাপাশি কাজাখস্তান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পেতে আগ্রহী। দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে হাইড্রোজেনও আমদানি করতে চায় জার্মানি।
মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর আস্তানায় মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের শীর্ষ নেতাদের এক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান ছাড়াও কিরগিস্তান, তাজাকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের নেতারা উপস্থিত থাকছেন।
গত বছরও বার্লিনে ‘জেডফাইভ প্লাস ওয়ান' গোষ্ঠীর নেতারা মিলিত হয়েছিলেন। কৌশলগত আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলা ছিল সেই উদ্যোগের লক্ষ্য। অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামাল, জলবায়ু সংরক্ষণ ও পরিবেশ নীতির ক্ষেত্রে এই দেশগুলি সহযোগিতা নিবিড় করতে চায়। মধ্য এশিয়ায় রাশিয়া ও চীনের বিশাল প্রভাব সত্ত্বেও জার্মানি কৌশলগত স্বার্থে সেই দেশগুলির সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে