জানা গেছে, ১৯২৪ সালের জুন মাসে অ্যান্ড্রু কমিন স্যানডে আরভিন তার প্রেমিকাকে নিয়ে এভারেস্ট আরোহনে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এরপর প্রেমিকার দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেলেও আরভিনের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে গত মাসে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ডকুমেন্টারি ধারণ করা একটি দল এভারেস্টে গিয়ে থামকে যায়। হাঁটতে গিয়ে তাদের পা একটি বস্তুর সঙ্গে থাক্কা খায়। এরপর তারা বস্তুটি কী তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
ওই চিত্রগ্রাহণকারী দলের নেতৃত্ব দানকারী জেমি চিন বলেন, বস্তুটিকে আবিষ্কার করার মুহূর্তটি ছিল আমাদের কাছে স্মরণীয় এবং আবেগের।
.png)
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ে জমে থাকা তুষার এবং বরফ পাতলা হয়ে আসছে। এর ফলে তুষারের নিচে চাপা পড়ে থাকা পর্বতারোহীদের মৃতদেহ আবিষ্কারের ঘটনাও বাড়ছে। এসব মানুষেরা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত চূড়ায় ওঠার স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন। অ্যান্ড্রু আরভিন ছিলেন এমনই একজন অভিযাত্রী।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানা গেছে, ১০০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯২৪ সালে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মিশনে গিয়েছিলেন আরভিন এবং জর্জ ম্যালরি নামে আরেকজন পর্বতারোহী। মিশন সফল হলে তারাই হতেন প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা দুজনই নিখোঁজ হয়ে যান।
নিখোঁজের ৭৫ বছর পর ১৯৯৯ সালে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল জর্জ ম্যালরির দেহাবশেষ। কিন্তু তার সঙ্গী আরভিনের কোনো হদিস ছিল না। অবশেষে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক দল একটি বুট আবিষ্কারের মাধ্যমে আরভিনের ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এভারেস্ট চূড়ার সেন্ট্রাল রংবুক হিমবাহে ওই বুটের মধ্যে আরভিনের একটি পায়ের অবশিষ্টাংশ এখনো রয়ে গেছে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানিয়েছে, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর তথ্যচিত্র নির্মাতা দলটি লাল লেবেল সহ একটি মোজা খুঁজে পায়, যেখানে সেলাই করে লেখা আছে এ সি আরভিন।
এ অবস্থায় দেহাবশেষের অবস্থান এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক দলটি ধারণা করছে, ১০০ বছর আগেই হয়তো পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন আরভিন এবং ম্যালরি।
অন্যান্য অভিযাত্রীরা আরভিন এবং ম্যালরিকে শেষ দেখেছিলেন ১৯২৪ সালের ৮ জুন বিকালে। সেদিন সকালেই তারা এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে চূড়ান্ত ধাপ পাড়ি দেওয়ার মিশন শুরু করেছিলেন। অন্যান্য অভিযাত্রীদের স্মৃতিচারণা থেকে অতীতে জানা গিয়েছিল, এভারেস্টে ওঠার সময় আরভিনের শরীরে একটি ক্যামেরার ভেস্ট লাগানো ছিল। সেই ক্যামেরাটি উদ্ধার করা সম্ভব হলে পর্বতারোহণের ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে এমনটাই বিশ্বাস করেন অনেকে। কারণ এভারেস্টের চূড়ায় যদি তারা পৌঁছেই থাকেন, তবে অবশ্যই সেই মুহূর্তটি তাদের ক্যামেরায় পাওয়া যাবে। তথ্যচিত্র নির্মাতা দলটি হন্যে হয়ে এবার ক্যামেরাটির অনুসন্ধান করছে।
আরভিন যখন এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার মিশনে গিয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। তার পরিবারের সদস্যরা দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে।