ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সব গোষ্ঠীকে সংলাপে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:১০, ৭ জানুয়ারি ২০২৫
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সব গোষ্ঠীকে সংলাপে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
রোহিঙ্গা- ফাইল ছবি

মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সব জাতিগত গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক সংলাপ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সব জাতিগত গোষ্ঠীকে রক্ষা করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় এআরএসপিএইচ।

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক পটভূমি:
অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর মতো রোহিঙ্গা সম্প্রদায় খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর আগে থেকেই আরাকানের (বর্তমানে রাখাইন রাজ্য) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাসের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। রোহিঙ্গারা একটি শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ধর্ম পালন করে, যা সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পক্ষে। তারা কখনো পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেনি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়নি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জাতি গঠনের প্রচেষ্টায় অবদান রেখেছে। তারা জাপানি এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছে।

Advertisement

শান্তির জন্য রাজনৈতিক সংলাপ:
মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্যালিং ও বর্তমান নেতৃস্থানীয়রা রাখাইন কমিটি ও আরাকান আর্মি (এএ) বিপ্লবী গোষ্ঠীর পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন। তবে সত্যিকারের শান্তি চাইলে রোহিঙ্গাসহ সব অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে এ ধরনের আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া প্রকৃত পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে। মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সব জাতিগত গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক সংলাপ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে।

আরাকান আর্মির (এএ) পদক্ষেপ সম্পর্কে উদ্বেগ:
আরাকান আর্মি (এএ) রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের আরাকান থেকে উচ্ছেদ করে তাদের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। যদি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করে, তা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আরাকান কেবল একটি জাতিগত গোষ্ঠীর ভূমি নয়। এ ধরনের একতরফা উদ্যোগকে সমর্থন করা রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবিচার ও নিপীড়নের সমর্থন করার সামিল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন:
আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ সব জাতিগত গোষ্ঠীকে রক্ষা করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য বিনীতভাবে আহ্বান জানাই। আমাদের লক্ষ্য বিচ্ছিন্ন করা নয় বরং একটি ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক জাতি গড়ে তোলা, যেখানে সব জাতিগত সংখ্যালঘু ভয়ভীতি বা সহিংসতা ছাড়াই স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সব মানুষের নিপীড়নের অবসান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করার আহ্বান জানাই। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে এমন একটি ভবিষ্যতের জন্য প্রচেষ্টা করি, যেখানে প্রতিটি জাতিগত গোষ্ঠী তাদের নিজ দেশে মর্যাদা, সমতা এবং শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!