ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে দিনভর আলোচনা হয়েছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তেহরান আলোচনার অবস্থান থেকে সরে গেলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তার এই মন্তব্যের পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমে এবং শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। আলোচনায় প্রায় ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে কথা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
.png)
তবে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে সামরিক হামলার হুমকি দিতে থাকলে ওমানের সঙ্গে হরমুজ নিয়ে সমঝোতা বিলম্বিত হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে নিরাপদ নৌপথ তৈরির আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধের কারণে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই পর্যন্ত প্রণালি ও আশপাশে ৬১টি নিশ্চিত সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘটনা এবং ১৭ জন নাবিকের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে কাতারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ট্রাম্প ফোনে কথা বলে যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে আলোচনার অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল বিরোধগুলো এখনো রয়ে গেছে—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রধান প্রশ্ন।