ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ককপিটে কুড়ালের আঘাত, ১৭৪ যাত্রীকে বাঁচালেন পাইলট

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬
ককপিটে কুড়ালের আঘাত, ১৭৪ যাত্রীকে বাঁচালেন পাইলট
সংগৃহীত ছবি

ককপিটের ভেতর সহ-পাইলটের আকস্মিক হামলা, একের পর এক কুড়ালের আঘাত এবং দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাওয়া বিমান—ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। গুরুতর আহত অবস্থায়ও শেষ শক্তি দিয়ে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা করেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ভারতীয় এই পাইলট।

Advertisement

ক্যাপ্টেন মাচ্ছার জানান, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটটি শুরুতে স্বাভাবিকই ছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সহ-পাইলট প্রার্থনা করার কথা বললে তিনি সৌজন্যবশত মুখ ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকান। এর চার-পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন তিনি।

প্রথমে মাচ্ছার ধারণা করেছিলেন, বিমানে হয়তো বড় কোনো যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটে থাকা সহ-পাইলটই তাকে হামলা করছেন।

জরুরি কুড়াল দিয়ে আঘাতের ফলে মাথার পেছনে গুরুতর জখম হয় এবং রক্তে ভেসে যায় শরীর। দৃষ্টিশক্তিও প্রায় ঝাপসা হয়ে আসে। একই সময়ে বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের নিচে নেমে যায়।

ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা মাচ্ছারের কানে তখন বাতাসের প্রচণ্ড শব্দের পাশাপাশি যাত্রীদের আতঙ্কিত চিৎকার ভেসে আসছিল।

মাচ্ছার বলেন, তার হাতে তখনও লড়াই করার শেষ শক্তিটুকু ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রতিরোধ করতে না পারলে বিমানের সবাই বিপদের মুখে পড়বেন। এরপর সব শক্তি একত্র করে ককপিটের দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে সেটি খুলে দেন।

দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকা কেবিন ক্রু ও ইসরায়েলি যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

ঘটনার পর ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে নায়ক হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বিমান চালনায় তার ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ সময়ে তিনি ৯ হাজার ৫০০ ঘণ্টার বেশি আকাশে উড়েছেন।

২০২২ সালের জুনে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ভারতে স্পাইসজেটে এক দশকের বেশি সময় লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাচ্ছার। বর্তমানে তার ভাইও ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট হিসেবে কর্মরত।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামলাকারী সহ-পাইলট হিসেবে ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ককপিটে থাকা জরুরি কুড়াল ব্যবহার করে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল-হাম্মামি ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের সন্তান। তিনি প্রায় আট মাস ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থী আদর্শের কারণে এর আগে ওমানে বিমানে ভ্রমণ এবং পাইলট প্রশিক্ষণে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে এমন পরিস্থিতির পরও ফ্লাইদুবাই কীভাবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলার উদ্দেশ্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!