ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় শিশুসহ ১৪ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জর্জিয়ার ডগলাস শহরে পাঁচজন এবং পেনসিলভানিয়ার এরি শহরে আরও নয়জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডগলাস শহরের একটি বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে পৃথক বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

এরি শহর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর নতুন করে কোনো গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গুলির শব্দ শনাক্তে ব্যবহৃত ‘শটস্পটার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ প্রথম সতর্কবার্তা পায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মাইক্রোফোনের সমন্বয়ে পরিচালিত এ প্রযুক্তি গুলির শব্দ শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য পাঠায়। তবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এদিকে, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এরি শহরের মেয়র ডেভলিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এরি পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে শহরটির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশপ্রধান বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।

এদিকে, পরপর দুটি বন্দুক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার কারণ ও বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে এমন বন্দুক হামলাকে সাধারণভাবে ‘ম্যাস শুটিং’ বলা হয়। তবে এর সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা নেই। বিভিন্ন সংস্থা হামলাকারীকে বাদ দিয়ে তিন বা চারজন কিংবা তার বেশি মানুষের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে এ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!