ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:২৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি
ছবি সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইরানের মধ্যস্থতায় ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তবে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি রিয়াদ। 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুতিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের তেহরান সফরেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজে করে ওই অর্থ তেহরানে নেওয়া হয়েছিল। তবে এ দাবিরও স্বাধীন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার তেহরানে ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। এতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজায়ি অংশ নেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো, আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেই এ সফর। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইয়েমেন যুদ্ধ। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর উত্তেজনা কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি।

ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতার আওতায় হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন দেওয়া ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে হুতিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার প্রত্যাশা ছিল। তবে সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্মকর্তার বক্তব্যে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। বরং সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপের মুখে নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া যাবে না। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুতিদের দখল করা এলাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নটিও রিয়াদের আপত্তির অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, হুতিদের হামলা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহকে চাপে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরানের বৈঠক আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কথিত অর্থের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, কিংবা তা যুদ্ধবিরতি আনতে পারবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!