নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু!
ইসরাইলের নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোসাদপ্রধান রোমান গফম্যান। এ খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই এই অভিযানের পক্ষে ছিলেন না। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরানে হামলা চালানো হলে বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
তবে আপত্তি সত্ত্বেও অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। শেষ মুহূর্তে ইসরাইলের এক নিরাপত্তাকর্মীর ভুলের কারণে পরিকল্পনার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মার্কিন হস্তক্ষেপে অভিযানটি আটকে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের কঠোর নজরদারির মধ্যেই চ্যানেল ১২ প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করে।
তবে এ প্রতিবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা এজেন্ডায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সে সময় বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধ
নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছিল। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, গত ২৫ অক্টোবর চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন উত্তেজনার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির। তিনি এ বিষয়ে আরও আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে লিখিত আইনি অনুমোদন চান।
এক সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারত।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেন এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে কোনো ধরনের হাতাহাতি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান।
তবে একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, সম্প্রতি তিনি আইডিএফ ও মোসাদকে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ইরান নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য
এদিকে চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, আলোচনার মাধ্যমে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প চান, ইসরাইল যেন চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে পরাস্ত করেছি। ইরানের সঙ্গে আমাদের পরিস্থিতি বেশ ভালো, আমরা কথা বলছি। গত ছয় বা সাত মাসে আমাদের কোনো সেনা নিহত হয়নি।’
এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, তার মধ্যস্থতা না থাকলে ইসরাইলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারত।