মগবাজারে বিস্ফোরণ: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১০ আগস্ট
রাজধানীর মগবাজারের ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমামের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে এ দিন ধার্য করেন। বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছে। মামলায় অবহেলাজনিত প্রাণহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
.png)
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুন ৭ টার দিকে রমনা মডেল থানাধীন বড় মগবাজারের রেখা নীড় ভবনের কোন অংশে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ভবনের সামনের ও পেছনের অংশ ধ্বসে পড়ে এবং মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের ফলে ভবনের সামনে তিনটি যাত্রীবাহী বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসের যাত্রীরা আহত হন। আশপাশের কয়েকটি ভবন, তার মধ্যে আউটার সার্কুলার রোডের ভবন নং ৭৭, ৭৮,৭৯/১, ৮১ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বিপরীত দিকে রাস্তার ওপারে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভবনে অবস্থানরত লোকজনসহ সাধারণ পথচারীরাও জখম প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট, সিআইডি ক্রাইম সিন, পিবিআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে খোজ খবর নেয়া হয়। এসময় জানা যায়, উক্ত ঘটনায় জখম প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান, স্বপন মিয়া, আবুল কাশেম মোল্লা, রুহুল আমিন নোমান, জান্নাত কাকলি ও সোবহানা ওরফে তায়েবা নিহত হয়েছেন।
মামলা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মৃতদের মধ্যে জান্নাত কাকলি ও তার মেয়ে সোবহানা ওরফে তায়েবা ধ্বসে পড়া ভবনের নিচ তলা শর্মা হাউজের ভেতরে ছিলেন। মৃত আবুল কাশেম মোল্লা ক্ষতিগ্রস্ত আজমেরি পরিবহন বাসের চালক। তিনি ধ্বসে পড়া ভবনের সামনের রাস্তার উপর ছিলেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত ৪০ থেকে ৫০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফিরে গেছেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ধ্বসে পড়া বিল্ডিংয়ের মালিকের অব্যবস্থাপনা, অতি পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ব্যবস্থাপনা অথবা ভাড়াটিয়া দোকানদার শর্মা হাউজের অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা অথবা বেঙ্গল মিট অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা, অথবা গ্র্যান্ড কনফেকশনারির অননুমোদিত গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার ও অবহেলা অথবা ২য় তলায় সিঙ্গার ইলেকট্রনিকস অননুমোদিত বৈদ্যুতিক সামগ্রী মজুদ রাখা ও অবহেলা অথবা তিতাস গ্যাস কোম্পানির অবহেলাজনিত গ্যাস সরবরাহ অথবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানির ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ অথবা উক্ত ঘটনাস্থলের সামনে সিটি কর্পোরেশনের অপরিকল্পিত ও গাফিলতিপূর্ণ ড্রেন খনন পূর্বক খনন কাজের জন্য এ ঘটনা ঘটে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যা পেনাল কোডের ৩০৪-ক ধারার অপরাধ।