ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা, প্রকৌশলী লিটনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:১৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা, প্রকৌশলী লিটনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যায় বিটিসিএলের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন আহম্মেদ লিটনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর ৭ম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত নভেম্বরে চাঞ্চল্যকর এ মামলায় শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ২২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। ঐদিন বিশ্ব ইজতেমার কারণে আসামিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ৩১ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করা হয়।

Advertisement

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি রাকিব উদ্দিন লিটন যাদের হত্যা করেছে তারা তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে হয়। তার স্ত্রীর নাম মুন্নী রহমান, ছেলের নাম ফারহান উদ্দিন ও মেয়ের নাম লাইবা রহমান। ছেলের বয়স ১২ বছর, মেয়ের বয়স ৩ বছর ৮ মাস। উক্ত আসামি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি পনের লাখ টাকার মতো সুদে ঋণ নিয়েছিল। পাওনাদারদের টাকা দিতে পারছিল না। পাওনাদাররা বাড়িতে এসে যা তা বলত। সে সুদের টাকার জন্য মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিল।

ঘটনার দিন  সকালে সে হাতুড়ি দিয়ে তার স্ত্রী শুয়ে থাকা অবস্থায় মাথায় জোরে আঘাত করে। এতে ঐ সময়ই তার স্ত্রী মারা যায়। তখন তার মেয়ে টিভি দেখছিল। টিভি দেখার সময় আসামি রশি দিয়ে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তারপর মেয়ের লাশ নিয়ে স্ত্রীর পাশে শুইয়ে রাখে। ঐ সময় ছেলেটি তার দাদুর রুমে ঘুমাচ্ছিল। আসামি তাকেও শ্বাসরোধে হত্যার সময় ছেলে ঘুম থেকে জেগে উঠে হাউ মাউ করে কাঁদে। পরে তাকেও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি নেশার ঘোরে নোটে কি যেন লিখতে থাকে। এরই মধ্যে কাজের বুয়া কলিংবেল বাজায়। সে বুয়াকে বলে আজ কাজ করা লাগবে না। অতঃপর কাজের বুয়া চলে যায়। পরে আসামি তার স্ত্রী-সন্তানদের লাশ ঘরের মধ্যে রেখে তালা মেরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। এরপর সে জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর দেখে সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে।

এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে। সে স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে তদন্তে উঠে আসে। ঋণের টাকার জন্য হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে এই কাজ করেছে বলেও চার্জশিটে উল্লেখ করে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!