ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ লাইফস্টাইল ]

কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ৫ জুন ২০২৪
কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
ছবি: অন্তর্জাল

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

কোরবানির ঈদ মানেই বাড়তি আয়োজন, বাড়তি কাজ। ঈদের নামাজ, পশু জবাই থেকে শুরু করে কাটাকুটি, মাংস ভাগ করা, যার যার ভাগ বুঝিয়ে দেওয়া, মজাদার সব খাবার রান্না করা, বাড়িতে অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করা, নিজে একটু পরিপাটি থাকা- একদিনে সারতে হয় অনেকগুলো কাজ। পরিকল্পনামতো কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই সবকিছু সামলে নিতে পারবেন। তাই কিছু টিপস জেনে নিন।

(১) প্রথমেই ঘরবাড়ি পরিষ্কারের উদ্দ্যোগ নিন। ঘরের ভেতরে ধুলো, ঝুল পরিষ্কার করে নিন। ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর ধুয়ে পরিষ্কার করুন। ঈদের আগেই আবার এগুলো লাগিয়ে নেবেন। ঘরের বিছানার জন্য নতুন চাদর রাখুন। ঈদের দিনটিতে ঘরের শোভা বাড়াবে।

Advertisement

(২) ঈদের দিনের অন্যতম অংশ হলো রান্না। রান্নার কাজ অনেকটাই গুছিয়ে রাখা যায় যদি আগে থেকে কিছু কাজ সেরে রাখা যায়। যেমন ধরুন, রান্নার জন্য যেসব মসলাপাতি দরকার, তা আগে থেকে গুছিয়ে বা তৈরি করে রাখতে পারেন। যেসব মসলা গুঁড়া করা দরকার সেগুলো গুঁড়া করে, যেগুলো বেটে রাখা দরকার সেগুলো বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন। এতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সব মসলা পেয়ে যাবেন। রান্না হবে অনেকটাই সহজ।

(৩) কোরবানির ঈদে রান্নার অংশটাই যেন বেশি। কোরবানির মাংস দিয়ে নানা পদের রান্না তো হয়-ই, পাশাপাশি পোলাও, মিষ্টান্ন, বিভিন্নরকম নাস্তাও তৈরি করা হয়। রান্নার কাজগুলো আগে থেকে অনেকটা গুছিয়ে রাখতে পারলে ঈদের দিন খুব বেশি চাপ পড়ে না। যেসব নাস্তা ঈদের দিন সকালে পরিবেশন করবেন তা আগেই তৈরি করে ফ্রোজেন করে রাখতে পারেন। পায়েশটা আগের রাতে রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। মাংস তো ঈদের আগে রান্না করা সম্ভব নয়। তবে মাংসের যাবতীয় মশলা তৈরি করে রাখতে পারেন। যাতে ঈদের দিন তাড়াহুড়ো না লাগে। পেঁয়াজ কাঁটা থেকে আদা-রসুন বাটা- সব আগেই সেরে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাতে সময় বেঁচে যাবে অনেকটাই।

(৪) কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ফ্রিজের। তাই হাতে সময় থাকতেই ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিন। অনেকের বাড়িতে নরমাল ফ্রিজ এবং ডিপ ফ্রিজ দুটোই রয়েছে। সব ফ্রিজ খালি রাখার চেষ্টা করুন। ফ্রিজে পুরোনো কিছু সংরক্ষণে থাকলে তা শেষ করে ফেলুন। ফ্রিজ খালি না থাকলে কোরবানির পশুর মাংস সংরক্ষণ করা যাবে না।

(৫) কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি কাজ থাকবে রান্নাঘরে। তাই রান্নাঘরটিকে গুছিয়ে নিন। প্রয়োজনীয় সব জিনিস রেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো সরিয়ে ফেলুন। রান্নাঘর গুছানো ও পরিষ্কার থাকলে রান্নার কাজ সহজ হয়।

(৬) কোরবানির পশুর মাংস রাখা এবং মাংস রান্না করার জন্য় যেসব বড় পাত্র প্রয়োজন সেগুলো আগেই বের করে রাখুন। সাধারণত কোরবানির মাংস রাখার জন্য বড় বড় বারকোশ, প্লাস্টিকের বোল, অ্যালুমিনিয়ামের ডিশ ও ডেকচির ব্যবহার হয়। এই পাত্রগুলোকে ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে গরম পানিতে ধুয়ে রাখুন।

(৭) কোরবানির পশুর মাংস বন্টন ও সংরক্ষণের জন্য় ভারী ও টেকসই ধরনের পলিব্যাগের প্রয়োজন হবে। বাজার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কিনে রাখুন। তাছাড়া কোরবানির পর ঘর পরিষ্কারের জন্য ডিটারজেন্ট, স্য়াভলন, চুনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ আগেই কিনে রাখুন।

(৮) বাড়ির যে স্থানে কোরবানি পশু রাখা হবে তা আগেই পরিষ্কার করে রাখুন। পশুকে পরিষ্কার স্থানে রাখবেন। যেন পশুর খাওয়া দাওয়া এবং থাকার কোনো সমস্যা না হয়। পশুর সুবিধার্থে ব্যবহার যাবতীয় জিনিস আগেই ব্যবস্থা করে রাখুন।

পরিশেষে, বিভিন্নরকম কাজের চাপে নিজের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বেন না যেন। সবার পাশাপাশি খেয়াল রাখুন নিজেরও। ঈদে বাইরে বের হওয়া হবে না বলে এলোমেলো হয়ে থাকবেন না যেন। নিজেকেও গুছিয়ে নিন। নতুন জামা কেনা না হলে তুলে রাখা কোনো একটি ভালো পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করে রাখুন। ঈদের দিন যেন আপনাকে দেখতেও পরিপাটি লাগে।

নারীরা হাতে মেহেদি পরতে পারেন। তাতে উৎসবের আলাদা আমেজ আসে। ছেলেরা পাঞ্জাবি-পায়জামা, আতর প্রস্তুত রাখুন। ঈদের নামাজে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হয়ে যান। ঈদের সারাদিনটি কাজ করেই না কাটিয়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখার ব্যবস্থা করুন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!