ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ লাইফস্টাইল ]

সুস্থ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

আনোয়ার মোরছালিন
প্রকাশিত: ১০:৪৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সুস্থ সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
সম্পর্কে জয়ী হওয়া নয়, এক সঙ্গে থাকা এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য

ভালবাসা দিয়ে সম্পর্ক শুরু করা যায়। কিন্তু শুধু ভালবাসা দিয়ে কি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়? অনেক দম্পতি এক সময় একে অপরকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। তবুও আজ তারা আলাদা। আবার এমন অনেক দম্পতি আছেন, যাদের মধ্যে বড় কোন নাটকীয় রোমান্স ছিল না, কিন্তু ৩০-৪০ বছর ধরে সুখে এক সঙ্গে আছেন।

তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?
সফল সম্পর্ক ভাগ্যের চেয়ে বেশি নির্ভর করে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের ওপর।

১. বিশ্বাস (Trust): বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে কথা রাখার মাধ্যমে, সততার মাধ্যমে, ধারাবাহিক আচরণের মাধ্যমে, বিশ্বাস ভাঙতে এক মুহূর্ত লাগে, কিন্তু গড়তে অনেক সময় লাগে।

২. সম্মান (Respect): ভালবাসা কম বেশি হতে পারে। কিন্তু সম্মান হারিয়ে গেলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু অপমান থাকা উচিত নয়।

৩. যোগাযোগ (Communication): শুধু কথা বলাই যোগাযোগ নয়। ভাল যোগাযোগের অর্থ মন দিয়ে শোনা, বাধা না দেওয়া, দোষারোপ না করা, নিজের অনুভূতি স্পষ্টভাবে বলা। অনেক সম্পর্ক সমস্যার কারণে নয়, সমস্যার বিষয়ে কথা বলতে না পারার কারণে ভেঙে যায়।

৪. আবেগগত নিরাপত্তা (Emotional Safety): আপনি কি আপনার সঙ্গীর কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে পারেন? ভুল করলে কি অপমানিত হওয়ার ভয় পান? যেখানে নিরাপত্তা নেই, সেখানে অন্তরঙ্গতাও টেকে না।

৫. দ্বন্দ্ব সমাধানের দক্ষতা: ঝগড়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক হল অপমান করা, চিৎকার করা, নীরব শাস্তি (Silent Treatment), প্রতিশোধ নেওয়া। সুস্থ সম্পর্কের মানুষ সমস্যাকে জেতা হারার লড়াই বানায় না। তারা সমাধান খোঁজে।

৬. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: অনেকেই ধরে নেয় সে তো জানেই আমি তাকে ভালবাসি। কিন্তু মানুষ ভালবাসা শুধু অনুভব করতে নয়, শুনতেও চায়। ধন্যবাদ দেওয়া, তোমার জন্যই পেরেছি এমন কথা বলা সম্পর্ককে গভীর করে।

৭. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: সুস্থ সম্পর্ক মানে একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং ব্যক্তিগত সময়, ব্যক্তিগত পরিচয়, বন্ধু, শখ, ব্যক্তিগত উন্নতি। এসবের জন্যও জায়গা থাকা। দুইজন সম্পূর্ণ মানুষ মিলে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলে।

৮. ক্ষমা করতে শেখা: ক্ষমা মানে ভুলকে সমর্থন করা নয়। ক্ষমা মানে, প্রয়োজন হলে ক্ষোভ ছেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে বারবার একই ক্ষতিকর আচরণ হলে শুধু ক্ষমা নয়, সীমারেখাও (Boundary) দরকার।

৯. এক সঙ্গে বেড়ে ওঠা: মানুষ বদলায়। যে দম্পতি এক সঙ্গে শেখেন, নতুন অভিজ্ঞতা নেন এবং একে অপরের পরিবর্তনকে গ্রহণ করেন, তাদের সম্পর্ক সাধারণত বেশি স্থিতিশীল হয়।

১০. প্রতিদিন সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া: সম্পর্ক বড় কোন একটি কাজ দিয়ে নয়, ছোট ছোট কাজ দিয়ে বাঁচে। প্রতিদিন ১৫ মিনিট মন দিয়ে কথা বলা। একসঙ্গে খাবার খাওয়া। ফোন সরিয়ে রেখে একে অপরকে সময় দেওয়া। প্রয়োজনে আমি দুঃখিত বলা। এই ছোট অভ্যাসগুলোই বছরের পর বছর একটি সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।

গবেষক John Gottman দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল সুখী দম্পতিরা ঝগড়া করে না, এমন নয়। বরং তারা ঝগড়ার পর কীভাবে আবার সংযোগ তৈরি করবেন, সেটি জানেন। সম্পর্কে জয়ী হওয়া নয়, এক সঙ্গে থাকা এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

প্রশ্ন: আপনার মতে, একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি?
১. বিশ্বাস
২. সম্মান
৩. যোগাযোগ
৪. ক্ষমা করার মানসিকতা
নাকি সবগুলোই সমান গুরুত্বপূর্ণ?

লেখক : আনোয়ার মোরছালিন
রিলেশনশীপ, মেন্টাল হেলথ এন্ড লাইফ কোচ
অ্যাপয়নমেন্ট : 01760452089
আরো তথ্য জানতে : https://www.facebook.com/anwarmorsalin

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!