ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ বাজার দর ]

শসার দা‌মে হতাশ কৃষক, তরমুজ-বাঙ্গিতে উত্তাপ (২৯ এপ্রিল ২০২৪)

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
শসার দা‌মে হতাশ কৃষক, তরমুজ-বাঙ্গিতে উত্তাপ (২৯ এপ্রিল ২০২৪)
ফাইল ফটো

প্রত‌্যন্ত অঞ্চ‌লের কৃষকরা খেতে শসার দ‌াম পা‌চ্ছে না। পাইকারিতে ৮০-১২০ টাকা মণ হিসেবে শসা বিক্রি করছেন তারা। সে হিসেবে কেজি প্রতি দাম পাচ্ছে ২-৩ টাকা। আর ভা‌লো মা‌নের হ‌লে কে‌জিপ্রতি বি‌ক্রি হ‌চ্ছে ৪ টাকা। সেই শসা তীব্র দাবদাহে রাজধানীর বাজা‌রগু‌লোতে ৪০-৫০ টাকা কেজি দ‌রে বি‌ক্রি হ‌চ্ছে।

সোমবার র‌াজধানীর রা‌য়ের বাজার ও মধুবাজার ঘু‌রে বি‌ক্রেতা‌দের সঙ্গে কথা ব‌লে এ তথ্য জানা গেছে।

সূ‌ত্রে জানা গেছে, ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও বাজারে শসার দাম ভালো থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করে। রমজানের শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি শসা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করলেও কয়েকদিন ধরে প্রতিকেজি শসা ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে। এতে লোকসান গুনছেন শসা চাষিরা।

Advertisement

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৪০-৫০ টাকায় প্রতিকেজি শসা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজার থেকে শসা কিনে আনতে খরচসহ ২০-২৫ টাকা পড়ে যায়। এই শসা এখন ৪০ টাকায় বিক্রি করতেছি। দোকান ভাড়া আছে বিদ্যুৎ খরচ আছে। ৪০ টাকায় না বেচলে পোসাইবো ক্যামনে।

এদিকে বাজার ঘু‌রে দেখা যায়, তীব্র দাবদাহে নাকাল রাজধানীবা‌সীর চা‌হিদা তরমুজ-বাঙ্গিতে। এ চা‌হিদায় অন্যান্য ফলের মতো তরমুজ ও বাঙ্গির দামে উত্তাপ। কিছুদিন আগে হ্রাস পাওয়া রসালো ফল তরমুজের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বেড়েছে বাঙ্গির দামও। দুই সপ্তাহ আগেও যে তরমুজ বিক্রি হয়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে, তা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।

তীব্র গরমের কারণে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় ও মৌসুমও শেষ দিকে চলে আসায় তরমুজের দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বাজারে কেজি ও পিস দুই হিসেবেই তরমুজের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। আর পিস হিসেবেও আগের থেকে দ্বিগুণ বেশিতে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। বয়কট আন্দোলনের পর ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনের তরমুজ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। অথচ এখন একই তরমুজ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও যে তরমুজ দেড়শ’ টাকা বিক্রি হয়েছে, সে একই তরমুজ এখন বাজারে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বয়কটে দাম কমালেও গরমে চাহিদা বাড়ায় দাম বৃদ্ধি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তরমুজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, তরমুজের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। যার ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। গরমের কারণে তরমুজ নষ্ট হওয়ার হার এবং পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই তরমুজের দাম কিছুটা বেড়েছে।

গরমের কারণে বেড়েছে বাঙ্গির দামও। বিভিন্ন আকারের বাঙ্গি বিক্রি হচ্ছে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকায়। যা কয়েকদিন আগেও এক থেকে দেড়শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

ক্রেতারা বলছেন, গরমে চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মানুষ যত বাঙ্গি খাবে তারা তত দাম বাড়াবে। এক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকায় বাজারে বাঙ্গির সরবরাহ কম। ফল ঢাকায় কম আসায় দাম বেড়েছে।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে আনারসের দাম। বাজারে জোড়া আনারস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর পিস হিসেবে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আকার ভিত্তিতে এ দামের তারতম্য রয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশে খুচরা হিসেবে আকার অনুযায়ী ২৫, ৩০ ও ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আনারস।

এদি‌কে ক‌য়েক‌টি বাজার ঘু‌রে দেখা যায়, চড়া দা‌মে বি‌ক্রি হচ্ছে সোনালি মুর‌গি। ত‌বে ক‌মে‌ছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সোনালি ও দেশি মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির দাম ২৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গত সপ্তাহে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে হয়েছিল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা। এখন আরো কিছুটা কমে বাজারে ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে মুরগি কেনায় আগ্রহ কমে গেছে। ফলে দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন পাইকাররা।

গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই এলাকাভেদে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজন। দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকা ডজন এবং হাঁসের ডিম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দেশি রসুনের কেজি ১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। আদা গত সপ্তাহে ছিল ২৪০ টাকা, এখন বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

রা‌য়ের বাজার ঘু‌রে দেখা যায়, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৭ টাকা কেজিতে। একইভাবে পাইজাম ৫৪-৫৫ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৪ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮-৭৯ টাকা। চিনিগুঁড়া চাল ১২০-১৪০ টাকা, বাসমতি ৮০ টাকা, কাটারি আতপ ৬৫-৬৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।  ঢেঁড়স, টমেটো ও পটল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিচিঙ্গা, করলা ও সাদা বেগুন ৫০ টাকা, কালো বেগুন ও বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সজনে এখনো ১০০-১১০ টাকা। তবে এই বাজারে অন্যান্য এলাকার চেয়ে কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়।

বাজারের মুদি দোকানগু‌লো‌তে দেখা গেছে, আগের মতোই ছোলা ১১০ টাকা কেজি, বেসন ১২০ টাকা, ১৬৩ টাকা লিটার সয়াবিন তেল, পাঁচ লিটার ৭৯০-৮০০ টাকা, খোলা চিনি ১৪০ টাকা, প্যাকেট চিনি ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। কিশমিশের কেজি ৫৮০-৭০০ টাকা কেজি, কাঠবাদাম ১ হাজার ১০০, দারুচিনি ৫৫০, লবঙ্গ ১ হাজার ৭০০ ও জিরার কেজি ৭৫০ টাকা।

টাউনহল বাজারের আলো জেনারেল স্টোরের শিপন জানান, অন্য মসলার দাম না বাড়লেও এলাচের দাম হঠাৎ করে কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর/ এআর/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!