কমছে পেঁয়াজের দাম, সবজি-মুরগির বাজার চড়া (৬ মে ২০২৪)
ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার খবরে রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোতে প্রভাব পড়েছে। এতে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম।
এছাড়া আটা (প্যাকেট) কেজিতে ৫ টাকা কমে ৫৫ টাকা, পাম অয়েল (লুজ সুপার) কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমার তালিকায় রয়েছে শুকনা মরিচ (দেশি) ও চিনি।
সোমবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
.png)
হাতিরপুল বাজারে খুচরা পর্যায়ে পাবনার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। আর ফরিদপুরের হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আসা পেঁয়াজ দেশের বাজারে সরবরাহ শুরু হলে দাম নেমে আসবে ৫০ টাকার নিচে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দামের মজুত করা পেঁয়াজ এখন পুরোটাই বিক্রি করতে হবে লোকসানে।
আর আড়তদারদের দাবি, ভারতের পেঁয়াজ রফতানির ঘোষণায় দাম কমে এসেছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারে আসতে আরো ৭-১০ দিন সময় লাগবে। এসব পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরো কমে যাবে।
ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে আমদানির বিকল্প নেই। ভারতীয় পেঁয়াজ এলে দাম আরো কমতে পারে।
মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী
কোরবানির ঈদের দেড় মাস বাকি। তবু মসলাপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এলাচ ৩০০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকা দরে। প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ দরে। আদা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। যা কয়েকদিন আগেও ৩০০ টাকা ছিল।
বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি সৃষ্টিতে দেশের শতাধিক ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিকেজি এলাচ ১৫ শতাংশ মুনাফাসহ বিক্রয়মূল্য হওয়ার কথা ১৬০০-১৭০০ টাকা। কিন্তু ৩৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। বেশি দামে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, মার্কেট প্রাইস যে দামে থাকে সবাই সেই দামে বিক্রি করি।
রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি দারুচিনি ৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক মাস আগে ৫২০ টাকা ছিল।
এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদ আসার আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ কোরবানির ঈদ ঘিরে এই পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। কয়েকবার অসাধুদের চিহ্নিত করলেও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই এখনই পদক্ষেপ না নিলে ঈদের আগেই মূল্য ক্রেতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
সোনালির পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও বৃদ্ধি-
বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে যা ৩৪০-৩৫০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে কিছুটা বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
হাওর এলাকায় বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। তারপরও চালের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। এক পয়সাও কমেনি চালের দাম। আগের মতোই প্রতি কেজি নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০ টাকা, মিনিকেট ৭২-৭৫ টাকা, আটাশ ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নামিদামি ব্র্যান্ডের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি এবং বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি।
সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার ৮১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে যা বিক্রি হয়েছে ৭৮০ টাকায়। এছাড়া আগের মতোই খোলা চিনি ১৪০, প্যাকেট চিনি ১৪৫, দুই কেজি আটা ১১০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশের কেজি ৫৮০-৭০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ১০০, দারুচিনি ৫৫০, লবঙ্গ ১ হাজার ৭০০ ও জিরার কেজি ৭৫০ টাকা।
কমেনি সবজির দাম-
দেশের বিভিন্ন স্থানে কম দামে বিক্রি হলেও রাজধানীতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের অজুহাতে বেশি দামেই ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে সবজি। বাজারে দেখা গেছে, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, করলা ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৪০, শিম ৪০, পেঁপে ৪০-৫০, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০, শসা ৪০-৬০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৬০, সজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটল ৫০-৬০, গাজর ৫০, কাঁচামরিচ ১২০-১৪০, বরবটি ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের দামও ৬০-৭০ টাকা কেজি, লেবুর হালি ছিল ৩০-৫০ টাকা।
স্থিতিশীল মাছ-মাংসের দাম-
বর্তমানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১০৫০-১১০০ টাকা কেজি। এছাড়া আগের দামেই রুই, কাতলা, ট্যাংরা, পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে মাংসের দামকিছুটা বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার কমে গেছে।
টাউন হল বাজারের আবু তাহের বলেন, রুই ও কাতলা ৩৫০-৫০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০, পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।