ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

কোরবানির গরুর নাড়ি-ভুঁড়িতে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:০৬, ২৩ জুলাই ২০২১
কোরবানির গরুর নাড়ি-ভুঁড়িতে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা
ফাইল ফটো

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে রফতানি হচ্ছে পশুর উচ্ছিষ্ট হিসেবে পরিচিত নাড়ি-ভুঁড়ি ও জননতন্ত্র। আর ঈদুল আজহা হচ্ছে গরুর উচ্ছিষ্ট সংগ্রহের ভরা মৌসুম। রফতানি উপযুক্ত কোরবানির গরুর উচ্ছিষ্ট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গরুর নাড়ি-ভুঁড়িকে বলা হয় ওমাসম। আর গরুর জননতন্ত্রকে বলা হয় পিজল। দেশে ওমাসম ও পিজলকে অবহেলা করা হয়। তবে বিদেশে এগুলোর বেশ কদর রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমাসম ও পিজলের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। করোনা সংকট না থাকলে ওমাসম ও পিজল থেকে আয় হতো সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। তবে করোনার মধ্যে এক বছরে ওমাসম ও পিজল রফতানিতে আয় হয়েছে ৩২০ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, সিংহভাগ ওমাসম ও পিজল রফতানি হয় চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে। রফতানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের রফতানিকারকরা মিলে বাংলাদেশ নাড়িভুঁড়ি ও জননতন্ত্র রফতানিকারক সমিতি নামে নতুন একটি সমিতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদের ওমাসম সংগ্রহের ভরা মৌসুম। বর্তমানে এক টন ওমাসম আট হাজার ডলারে রফতানি করা হয়। ফলে প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে এক টন ওমাসম বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার। এক কনটেইনারে ২৮ টন ওমাসম বিদেশে রফতানি হয়। গড়ে প্রতি মাসে ১৪ কনটেইনার ওমাসম বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এর ফলে বছরে এখন ১৬৮ কনটেইনার ওমাসম বিদেশে রফতানি হচ্ছে। ফলে ১৬৮টি কনটেইনার ওমাসমের মূল্য ৩১৯ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

আড়তদাররা কসাই বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি পিস কাঁচা (লবণযুক্ত) পিজল কেনেন ৫০ থেকে ৭০ টাকা দামে। যা প্রক্রিয়াজাত শেষে প্রতিকেজি রফতানিকারকের কাছে বিক্রি করেন ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়। প্রক্রিয়াজাত ছাড় প্রতিকেজি কাঁচা (লবণযুক্ত) ওমাসম বিক্রি হয় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। রফতানির পর বিশ্ব বাজারে প্রতি টন ওমাসম আট হাজার ডলারে বিক্রি হয়। রফতানি শেষে প্রতি টন পিজল বিক্রি হয় আট থেকে সাড়ে আট হাজার ডলারে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের ১০ জনসহ সারাদেশের ৪০ জন ব্যবসায়ী গরুর ওমাসম ও পিজল রফতানির সঙ্গে জড়িত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোক ঠিক করে বছরজুড়েই ওমাসম ও পিজল সংগ্রহ করেন তারা। বছরের মোট চাহিদার এক তৃতীয়াংশ ওমাসম ও পিজল সংগ্রহ করা হয় কোরবানির সময়। তারপর প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে নাড়ি-ভুঁড়ি থেকে চর্বি আলাদা করা হয়।

বাংলাদেশ ওমাসম এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, করোনা সংকটের কারণে ওমাসম রফতানি অর্ধেকে নেমেছে। এখন গড়ে প্রতি মাসে ১৪টি কনটেইনার ওমাসম রফতানি করা হয়। বাংলাদেশের ওমাসমের চাহিদা বিদেশে অনেক। আমার পরামর্শ, কোরবানির গরু-মহিষ জবাইয়ের পরে ওমাসম ও পিজল লবণ দিয়ে সংগ্রহ করা দরকার। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ/টিআরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!