বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয় ।
সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৬ নাইজেরিয়ান হলেন- উদিজ ওবিন্না রুবেন, ইফুনান্যা ভিভিয়ান নাউকি, সানডে শেডারেক ইজিম, চিনেদু মোসেস নাজি, কলিমস ইফেসিনাচি টালাইক ও চিদিম্মা ইবেল আইলোফর। গ্রেফতার দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিকের নাম টম্বিখনা গেবুজা। এছাড়া এ চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই বাংলাদেশি হলেন মো. নাহিদুল ইসলাম ও সোনিয়া আক্তার।
.png)
মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবী, রূপনগর এবং দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব ৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেফতার আসামিরা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে নিজেদের পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশের নাগরিক বলে পরিচয় দেয়। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির পর দামি উপহার বাংলাদেশে পাঠানোর কথা বলে। এর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের কাস্টমস অফিসার পরিচয়ে এক নারী ফোন করে বলে তার নামে বিমানবন্দরে একটি পার্সেল এসেছে। পার্সেলটি ডেলিভারি করতে কাস্টমস চার্জ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে পরিশোধ করতে বলা হয়। যেহেতু পার্সেলে মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে তাই কাস্টমস চার্জ একটু বেশি হয়েছে বলে তাদের বোঝানো হয়। অর্থ পরিশোধ করার পর পার্সেলটি নিতে বিমানবন্দরে গেলে দেখা যায়, তার নামে কোনো পার্সেল আসেনি। বিদেশি বন্ধুরও তখন আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।
আরো পড়ুন: থানার পেছনে পড়ে ছিল যুবকের মরদেহ
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার উদিজ ওবিন্না রুবেন ২০১৭ সালে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ২০২০ সালে তার নামে প্রতারণার মামলা হওয়ায় তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তিনি নিজেকে একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। প্রকৃতপক্ষে প্রতারণাই তার মূল পেশা। সে এই আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের মূল হোতা। দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক টম্বিখনা গেবুজা ২০২০ সালে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এবং তিনি নিজেকে রুবেনের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।
এ ছাড়া সবারই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জনের আগের মামলা রয়েছে।
আরো পড়ুন: ভুয়া পুলিশের বিলাসী জীবনযাপন
নাহিদুল ও সোনিয়া সম্পর্কে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সোনিয়া আক্তার ও নাহিদুল ইসলাম এই আন্তর্জাতিক চক্রের দেশীয় সহযোগী। নাহিদুল ২০১০ সালে একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে রেস্টুরেন্ট ও একটি কলসেন্টারে কাজ করে। ২০১৭ সালে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে ডিপ্লোমা করে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় যান। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং গ্রেফতার সোনিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন। সোনিয়ার ২০০৯ সালে প্রথম বিবাহ হয়। কিন্তু স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৭ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে নাইজেরিয়ান নাগরিক রুবেনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তারপর থেকেই তিনি এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ভিকটিমপ্রতি প্রতারণার জন্য ২৫ শতাংশ অর্থ সোনিয়াকে দেওয়া হতো। সোনিয়া আক্তারের নিজের নামে দক্ষিণখানে একটি চারতলা বাড়ি এবং একটি প্রাইভেট কার রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসে সোনিয়া ও নাহিদুল নাইজেরিয়ান নাগরিক রুবেনের সঙ্গে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় প্রতি মাসে দুই-তিনবার দেখা করত। গত এক বছরে তারা ৩০ থেকে ৩৫ জনের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মোজাম্মেল হক।