করোনা স্থিতিশীল হলেও মাস্ক খুলে রাখার সময় হয়নি
দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশপাশি সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। এখনই মাস্ক খুলে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি
রোববার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ সতর্কবার্তা দেন অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান ও অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।
তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরেছি। গত সাতদিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে চার শতাংশের মতো শনাক্তের হার ছিল, কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারিতে তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ, ধীরে ধীরে তা তিন দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এভাবে কমতে কমতে গতকাল শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে দুই দশমিক ১১ শতাংশ।
.png)
অর্থাৎ, এ প্রথম চলতি বছরে দুই থেকে তিন শতাংশের ঘরে রয়েছে শনাক্তের হার। এভাবে যদি সংক্রমণ কমতে থাকে তাহলে অচিরেই আমরা দুই শতাংশের নিচে চলে আসতে সক্ষম হবো বলে আশাবাদী।
তবে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। দীর্ঘদিন আমাদের এগুলো মেনে চলতে হবে। এখনই মাস্ক খুলে ফেলার মতো কোনো কিছু হয়নি জানিয়ে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, আমরা দেখেছি, অনেকেই ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ভাবছেন, এর প্রভাব কমে গিয়েছে। রোগী শনাক্ত এবং নমুনা পরীক্ষা কমে গিয়েছে। এজন্য অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না অথবা মাস্ক খুলে ফেলার পেছনে যুক্তি দিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের খেয়াল করতে হবে, গতকালও (৫ মার্চ) ১৩ জন মানুষের মৃত্যু এবং ৩৬২ জন শনাক্ত হওয়ারর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু ভাইরাসের মিউটেশন হচ্ছে, ভাইরাসের এখনো ইভোল্যুশন হচ্ছে। আবার নতুন করে কোনো ভ্যারিয়েন্ট আসবে কিনা সে শঙ্কাটা থেকেই যাচ্ছে। ওমিক্রনের যেসব নতুন নতুন উপধরন বিএ.২ বা অন্য কিছু, তা চলে আসার আশঙ্কা থাকবে।
অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, আমাদের যেসব রিস্কি গ্রুপ আছে—ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, ক্যানসারের রোগী। তাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনও সিরিয়াস হতে পারে।