পানির কষ্টে পড়েছেন জিম্মি নাবিকরা
সোমালিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে দস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজের নাবিকরা পানির কষ্টে পড়েছেন। এ কারণে তারা সপ্তাহে মাত্র দুইবার গোসল করতে পারছেন বলে জানা গেছে।
ছিনতাইকৃত এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিক আইনুলের মা লুৎফা আরা মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান।
গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ছেলে জানিয়েছে, তারা খুবই পানির কষ্টে রয়েছে। এখন পর্যন্ত সপ্তাহে কেবল দুবার গোসলের সুযোগ পাচ্ছে। সামনে হয়তো তারা সপ্তাহে একবারের বেশি সুযোগ নাও পেতে পারে। আমার ছেলে তো ইঞ্জিন রুমে কাজ করে। তাই তার কষ্ট অনেক বেশি। ঈদের যে আনন্দ, সেই আনন্দের মন মানসিকতা আমাদের এখন নেই। দুইটা ছেলে ছাড়া আমার আর কেউ নেই।
.png)
গত শুক্রবার নাবিকদের বেশ কয়েকজনকে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয় জলদস্যুরা। ঐদিন ইফতারের পর ছেলে আইনুল তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে এসব জানান।
জানা গেছে, জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নাবিকদের দ্রুত মুক্তির ব্যাপারে আশ্বাস পেয়ে পরিবারগুলোর আশা ছিল, তাদের প্রিয়জনরা হয়তো ঈদের আগেই দেশে ফিরবে। অন্তত জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাবে।
২০২১ সালে কোভিড মহামারিতে স্বামীকে হারান লুৎফা আরা। এরপর দুই ছেলেই তার সবকিছু। বড় ছেলে আইনুল জাহাজের চাকরিতে যোগ দেয় ২০১৫ সালে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি একাই ধরেন সংসারের হাল। জলদস্যুদের কবলে জাহাজ এ খবর জানার পর থেকে চোখে ঘুম নেই এই মায়ের।
লুৎফা আরা বলেন, ডাক্তার ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন, তারপরও ঘুম আসে না। কেবল দুশ্চিন্তা এসে ভর করে। ছোট ছেলেকেও সারাক্ষণ বাসায় থাকতে বলেছি।
কেএসআরএম গ্রুপের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে নাবিকদের মুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। ঈদের পর দ্রুততম সময়ে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তি এবং ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মালিক কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে কয়লা নিয়ে যাওয়ার পথে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। বর্তমানে সোমালি উপকূলের কাছে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে জাহাজটি।