এনআইডির সংশোধন নিয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, ভোগান্তি তো কমছেই না। উল্টো হতে হয় সীমাহীন বিড়ম্বনার শিকার। তাদের প্রশ্ন, জাতীয় পরিচয়পত্রের এই দুর্ভোগ দূর হবে কবে?
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বাবার চেয়ে ছেলের বয়স বেশি, নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা ঠিকানা ভুল, নিম্নমানের ছবির সংশোধনী নিয়ে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
.png)
এনআইডি মায়ের নাম পরিবর্তন করতে গিয়ে এমনই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন মৌলভীবাজারের সিএনজিচালক খোকন মিয়া। তিনি জানান, তার মায়ের নাম সরুফা খাতুন। কিন্তু তাকে যে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, সেখানে নাম এসেছে শরবতেননেসা। এটি সংশোধনের আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন ২০১৯ সালে। সঙ্গে জমা দিয়েছেন বিভিন্ন প্রমাণপত্র। তবু সংশোধন হয়নি সেই ভুল।
আরেক ব্যক্তির জন্ম সাল ১৯৮৬, কিন্তু এনআইডিতে এসেছে ১৯৭৬ সাল। তিনি এসএসসি পাশ করেননি, কিন্তু তার কাছে চাওয়া হচ্ছে এই পরীক্ষার সার্টিফিকেট। কারণ এনআইডি সার্ভারে উল্লেখ করা আছে তিনি এসএসসি পাস।
একজন কিংবা-দুইজন নয়, নাম, ঠিকানা ও ছবিসহ বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করে নির্বাচন কমিশনে ঘুরছেন ৩ লাখেরও বেশি ভুক্তভোগী।
৩০ দিনে সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও সমাধান মেলে না বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও। একজন কিংবা-দুইজন নয়, নাম, ঠিকানা ও ছবিসহ বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করে নির্বাচন কমিশনে ঘুরছেন ৩ লাখেরও বেশি ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে সোমবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয় এনআইডি সংশোধনের আবেদনসমূহ ক্যাটাগরিকরণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি বিষয়ক কর্মশালা। কর্মশালায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব শফিউল আজম বলেন, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও নির্বাচনি কর্মকর্তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় এনআইডি সংশোধনের আবেদনসমূহ যথাসময়ে নিষ্পন্ন করা সম্ভব হয় না। এমনকি ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে আবেদনসমূহ পড়ে রয়েছে বলে জানা যায়। ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির জন্য জমা রয়েছে।
৩০ দিনে সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও সমাধান মেলে না বছরের পর বছর ধরনা দিয়েও।
কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল স্বীকার করে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জালিয়াতি হচ্ছে। তথ্য দাতা এবং নিবন্ধনকারী দুই পক্ষেরই আছে গাফিলতি। সংশোধনের যে নিয়ম আছে তা অবশ্যই মানতে হবে।