রোববার তথ্য যাচাই সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গায় মেয়েদের বাজারে যাওয়া নিষেধ করে ফতোয়া জারি হয়েছে- এমন দাবি করেন বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনও একই দাবি করেন। তারা উভয়ই এক ভিডিওর বরাতে এই দাবি করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় গণমাধ্যম আজতাক বাংলা, রিপাবলিক বাংলা, টিভি৯ বাংলা, জি২৪ ঘণ্টা, ক্যালকাটা নিউজ, আর প্লাস, নিউজ এক্স এ নিয়ে সংবাদ প্রচার করে।
.png)
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভিডিওতে কোথাও মেয়েদের বাজারে যাওয়া নিষেধ উল্লেখ করে কোনো ফতোয়া জারি করা হয়নি। ভিডিওটি ছিল গোপালগঞ্জ জেলার গওহরডাঙ্গায় আয়োজিত এক মাহফিলকে কেন্দ্র করে। গওহরডাঙ্গা মাদরাসার ৮৯তম মাহফিলে অস্থায়ী দোকানপাটে মহিলা প্রবেশ প্রসঙ্গে মাইকিংয়ের একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ দিয়ে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে গওহরডাঙ্গা মাদরাসার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে। ‘৮৯ তম বার্ষিক মাহফিলে দোকানদারদের উদ্দেশে বিশেষ ঘোষণা।’ ক্যাপশন দিয়ে ২৭ নভেম্বর ঐ ভিডিও ছাড়া হয়।
সেখানে বলতে শোনা যায়, ‘দোকানদার ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে, আগামীকাল থেকে এই মার্কেট এলাকায় কোনো মহিলা প্রবেশ করবে না। যদি কোনো মহিলা আসে আমরা তাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে ফিরিয়ে দিব, তাদের কাছে আমরা কোনো কিছু কেনাবেচা করবো না।’
ভিডিওটি রিউমর স্ক্যানার টিম পর্যালোচনা করে জানায়, মাহফিলে সাধারণত যেসব অস্থায়ী দোকানপাট বসে সেসবের দোকানীদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, মহিলাদের কাছে কোনো কিছু বিক্রি না করতে এবং মহিলাদের মাহফিলের উদ্দেশ্যে বসা দোকানপাটে না আসতে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রচারিত হলে গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।
সেখানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা রীতি অনুযায়ী মাহফিলে নারী-পুরুষের পৃথক যাতায়াতের পথ ও বসার স্থান নির্ধারিত রয়েছে। একই রীতি অনুযায়ী পুরুষ প্যান্ডেলের দিকে আয়োজিত স্থায়ী দোকানে যেন নারীরা না আসে, আর আসলেও যেন তাদের কাছে কোনো কিছু না বিক্রি করে সেই আহ্বান জানানো হয়। এটা বাংলাদেশের কোনো বাজারের নারীদের যাওয়া নিষেধ সংক্রান্ত ফতোয়া নয়।
সূত্র: রিউমর স্ক্যানার