ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলে ছাড় হয়নি এক টাকাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৫, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলে ছাড় হয়নি এক টাকাও
ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল চালুর সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। স্বল্পসুদের এই ঋণ পেতে আগের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার শর্ত থাকায় মূলত এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ধ কারখানাগুলোর বড় অংশই বর্তমানে ঋণখেলাপি। ফলে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা নিয়মিত না করে নতুন তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম এগোচ্ছে ধীরগতিতে।

Advertisement

এ ছাড়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পর আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত হবে কি না—এসব বিষয় নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাবনাময় ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনা যেতে পারে। তবে অর্থায়নের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সক্ষমতা, পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে গত ২৩ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা। পরে ৪ জুন এ তহবিলের নীতিমালা জারি করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ কারখানাকে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ যাচাই-বাছাই শেষে আবেদন অনুমোদন করলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এ কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৪১টি ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। এসব ব্যাংকে আবেদনও জমা পড়ছে। তবে পুরোনো ঋণ নিয়মিত করার শর্ত থাকায় আবেদনগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে সময় লাগছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া ঋণ রয়েছে—এমন এক হাজারের বেশি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ কারখানার তালিকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দিয়েছে।

চট্টগ্রামের রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) এর একটি উদাহরণ। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে। ফলে নতুন তহবিল থেকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আরএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। মূল ঋণের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার কম হলেও সুদসহ বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দাবি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, পুরোনো ঋণ নিয়মিত করার পরই প্রণোদনা তহবিলের ঋণ পাওয়া যাবে। এ শর্তের কারণেই প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হচ্ছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনাকালীন সময়ের ঋণের একটি বড় অংশ এখনো আদায় হয়নি। নতুন তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় ব্যাংকগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি সংকটের কারণেও কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তারা ব্যবসা পুনরায় চালুর সক্ষমতা রাখলে তাদের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

তার মতে, সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই করে অর্থায়ন করা হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কর আদায় বাড়বে এবং দেশের জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যৌক্তিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিতে আরও নমনীয় হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ছাড় চাইতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!