শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বইমেলার দুয়ার খোলে, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুরুতেই পাঠক-দর্শনার্থী উপস্থিতি না থাকলেও ইফতারের পরপরই মেলায় পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা বাড়তে থাকে। সেই উপস্থিতি ছিল মেলার শেষ পর্যন্ত। রমজানের মধ্যেও এবারের মেলা নিয়ে বেশ আশাবাদী প্রকাশকেরা।
অন্যপ্রকাশের পরিচালক সিরাজুল কবির চৌধুরী কমল বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, এবারের মেলা খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২য় দিন হিসেবে উপস্থিতি একেবারেই খারাপ না। এখন দেখা যাক, আগামীতে কি হয়! তবে আমরা আশাবাদী, একটি ভালো মেলার জন্য।
.png)
শিশুপ্রহর থাকাতে দিনের হিসেবে কিছুটা ভালো ময়ূরপঙ্খি প্রকাশনীর। ময়ূরপঙ্খির প্রকাশক মিতিয়া ওসমান বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, মেলার দ্বিতীয় দিন শিশু প্রহর থাকাতে আজ উপস্থিতি ভালো। বিক্রির কথা বলতে গেলে, ১ম দিনের তুলনায় বিক্রি ভালো। আশা করছি, আগামীর দিনগুলোতে ভালো বিক্রি হবে।
এদিকে মেলা পরিদর্শনকালে এসে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, আজ-কালের মধ্যে স্টল নির্মাণের কাজ শেষ হবে। আগামীকাল শনিবার আমরা মেলার ভালো ম্যুডটি আমরা পাব।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : ফরিদা পারভীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ রোমেল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ড. আবু ইসহাক হোসেন।
প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ রোমেল বলেন, বাংলাদেশের সংগীত জগতে অনন্য একজন শিল্পী ফরিদা পারভীন। শিশুকাল থেকেই তিনি সংগীত সাধনায় মনোনিবেশ করেন। সংগীতের বিভিন্ন ধারায় বিচরণ করলেও লালনসংগীত শিল্পী হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন। লালনসংগীতের ভাব, আধ্যাত্মিক কথা ও দর্শন তাকে আকৃষ্ট করেছিল। ফলে শিল্পী হিসেবে তার রূপান্তর ঘটে। ফরিদা পারভীন লালনসংগীতের একজন সাধক শিল্পী হিসেবে আবিভূর্ত হন। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে লালনের গান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। এই সাধক শিল্পী তার অতুলনীয় গায়কীর কারণে উত্তরপ্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আলোচনায় ড. আবু ইসহাক হোসেন বলেন, ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে ভর করে লালনের গান দেশ ও দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। লালনসংগীত ছাড়াও দেশাত্মবোধক ও আধুনিক বাংলা গানের ইতিহাস লিখতে গেলে ফরিদা পারভীনের নাম অপরিহার্য। তার গান শুনে বিশ্বের প্রখ্যাত অনেক পণ্ডিত ও গবেষক লালনের দর্শন ও গানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, ভাষার মাসে শিল্পী ফরিদা পারভীনকে নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। লালনের গানের ভাষায় ভাবের যে শক্তি, তা ফরিদা পারভীনের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। ফরিদা পারভীনের গায়কীর মধ্য দিয়ে লালন আবার নতুন করে আমাদের কাছে হাজির হয়েছেন।
এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন ফরহাদ মজহার। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আবদুল হাই শিকদার এবং হাসান হাফিজ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নূরুল হাসনাত জিলান, আশরাফুল হাসান, আরিফুল হাসান এবং সীমা ইসলাম।
প্রসঙ্গত, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।