পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পৃথিবী গড়তে জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতেই হবে। কেননা জৈব জ্বালানি গ্রিনহাউস গ্যাস কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস করার একটি টেকসই কৌশলগত সমাধান দেয়। আমরা যদি তুলনা করে দেখি তাহলে দেখব- জীবাশ্ম-জ্বালানির তুলনায় জৈব-জ্বালানি বিভিন্নভাবে সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনা বা সুবিধাগুলোকে যে দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা যায়-
- পরিবেশগত, জালানি নিরাপত্তা বিষয়ক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট।
- জৈব-জ্বালানির ব্যাবহার বায়ু-দুষণ এবং গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বিকল্প জ্বালানি হিসেবে জৈব-জ্বালানি (বায়োফুয়েল) সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সম্ভাবনাময়। জৈব-জ্বালানি হল তরল বা বায়বীয় জ্বালানি যা উৎপাদন করা যায় যে কোন ধরনের নবায়ণযোগ্য জৈব উৎস (বায়োমাস) থেকে।
আজ ১০ই আগস্ট বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবস'। প্রতি বছর ১০ আগস্ট, 'বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবস' পালিত হয়। প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য, এবং জৈব জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ভারত সরকারের প্রচেষ্টার জন্য এটি পালন করা হয়।

প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসাবে অ-জীবাশ্ম জ্বালানির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১০ শে আগস্ট World Biofuel Day বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি ১৮৯৩ সালে স্যার রুডলফ ডিজেল দ্বারা পরিচালিত ডিজেল ইঞ্জিনে চিনাবাদাম তেলের প্রথম সফল ব্যবহারের বার্ষিকীকে স্মরণ করে। ডিজেলের পরীক্ষায় দেখা গেছে যে জৈব তেল ইঞ্জিনকে শক্তি দিতে পারে, যা জৈব জ্বালানির বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করে।
জৈব-জ্বালানির মধ্যে বায়ো-ইথানল, বায়ো-মিথানল, বায়ো-বিউটানল, বায়ো-ডিজেল, বায়োগ্যাস এবং বায়ো-হাইড্রোজেন অন্যতম। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হল বায়ো-ইথানল, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে শিল্প-পরিসরে উৎপাদন এবং ব্যাবহার চালু হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য হল ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা এবং ইউরোপের কিছু দেশ।
জৈব জ্বালানি কী ?
আগেই বলা হয়েছে, দেশের পরিবেশগত সুস্থতার জন্য বিকল্প জ্বালানি কতটা প্রয়োজনীয়, সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য 'বিশ্ব জৈব জ্বালানি দিবস' পালন করা হয়। তাই জৈব জ্বালানি কী, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
জৈব জ্বালানি হল- পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, যার ব্যবহার কার্বন নিঃসরণ কমাতে অনেক সাহায্য করবে। এগুলি নবায়নযোগ্য জৈববস্তুপুঞ্জের মাধ্যমে তৈরি করা হয় এবং তাই টেঁকসই উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় পরিবেশের ক্ষতি না করেই জৈব জ্বালানি একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
জৈব জ্বালানির নিম্নলিখিত সুবিধাগুলিও রয়েছে :
• অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা হ্রাস একটি পরিষ্কার পরিবেশ গড়ে তোলা।
• গ্রামীণ এলাকার জন্য অতিরিক্ত আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

আলু দিয়ে জৈব জ্বালানি : বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী আজম তালুকদার এবং তার গবেষণা টিম প্রায় ১২ বছর ধরে বায়োফুয়েল নিয়ে গবেষণা করছেন। এই গবেষণায় খেজুরের রস এবং পান্তা ভাত থেকে দুর্লভ প্রকৃতির ৫টি অণুজীব শনাক্ত করা হয়েছে।
ড. আজম বলেন, অণুজীব এবং গোলআলুকে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়োফুয়েল তৈরি করা হয়েছে, যা জৈব জ্বালানি হিসেবে গাড়ি চালানোসহ অন্যান্য জায়গায় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গাঁজানো প্রক্রিয়ার উচ্ছিষ্ট অংশ জৈব সার, গৃহপালিত পশু-পাখি, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তার গবেষণাপত্রটি বিশ্বখ্যাত নেচার গ্রুপের সায়েন্টিফিক রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে।
.png)