পুত্র ও কন্যা সন্তান দুটোই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে, জরায়ুতে যদি কন্যা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহ’লে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হ’তে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) কমতে থাকে। পক্ষান্তরে জরায়ুতে যদি পুত্র ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহ’লে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) কমতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হ’তে থাকে।তাছাড়া মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া ক্রমোজম থাকে।
অনেকে মনে করেন, পুত্র সন্তান "বংশ রক্ষা " করে আর কন্যা সন্তান করে না- এর থেকে অবৈজ্ঞানিক কথা আর কিছুই হয়না! আপনি বা আপনার বংশ হলো আসলে ওই ৪৬ টা ক্রোমোজোম! সন্তান উৎপাদনের সময় ২৩টা আপনি transmit করবেন ২৩ টা আপনার স্বামী বা স্ত্রী!
.png)
মানে সন্তানের অর্ধেক gene বাবার অর্ধেক gene মা-এর এক্ষেত্রে পুত্র আর কন্যার কোনো ফারাক নেই!! কন্যার বিবাহ হলেও gene এর তো কোনো পরিবর্তন করা যায়না মশাই, কোনো মন্ত্র পড়েই করা যায়না!! ওই gene এর মাধ্যমেই আপনি আপনার বংশের দোষ-গুন-বিদ্যা-প্রতিভা এমনকি অসুখ-বিশুখ ইত্যাদি পরবর্তী প্রজন্মে transmit করেন, আর বিশ্বাস করুন এক্ষত্রে বাচ্চার বাবার "বংশের" যা অবদান, মায়ের বাড়ির "বংশের" ও সমান অবদান!!!
আল্লাহ তায়ালা অনেককে ছেলে ও মেয়ে দান করেন। কাউকে শুধু ছেলে সন্তান দেন, কাউকে শুধু মেয়ে সন্তান দেন। আবার অনেককে কোনো সন্তানই দেন না। এটা আল্লাহর ফয়সালা ও তার নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আসমানগুলো ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান’ (সুরা শূরা : ৪৯-৫০)।
মজার ব্যাপার হলো- কন্যা সন্তানের বাবারা দীর্ঘায়ুর অধিকারী হয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে বাবার যত বেশি কন্যা সন্তান, তিনি তত বেশি বছর বাঁচেন বলে গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। পোল্যান্ডের জাজিলোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এই গবেষণা চালায়।
গবেষণার তথ্য মতে, যাদের ছেলে সন্তান আছে সেসব পিতাদের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তবে যাদের কন্যা রয়েছে তারা দীর্ঘায়ু হয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, মেয়েরা বাবার জন্য বেশি আনন্দ নিয়ে আসে যা বাবার আয়ু বাড়িয়ে দেয়। প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্য ৭৪ সপ্তাহ বা ৫১৮ দিন বা প্রায় দুই বছর বেশি বাঁচেন। সন্তান জন্মানোর সময় পিতার স্বাস্থ্য এবং শরীর কীভাবে প্রভাবিত হয় তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে।