ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খবর ]

ফিনল্যান্ডের প্রকৌশলী'র সৌরচালিত ইয়াট

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩১, ১৩ আগস্ট ২০২৬
ফিনল্যান্ডের প্রকৌশলী'র সৌরচালিত ইয়াট
সোলার বোট ব্যবহার করলে পানিতে ডিজেল/পেট্রোল মিশে পানি দূষণ হয়না, এবং প্রচলিত জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের তুলনায় শব্দ ও কম্পন অনেক কম হয়। ফলে নদীর বা সমুদ্রে থাকা মাছ, ডলফিন এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বাসস্থান ও জীবন রক্ষায় পরিবেশবান্ধব। 

"কোনো পেট্রোল নয়। কোনো ডিজেল নয়।

শুধু সূর্যালোক থেকে ব্যাটারি চার্জ হয়েছে আর ইয়াটটি এগিয়ে চলেছে।"

এক ব্যাক্তি এমন একটি ইয়াট তৈরি করেছেন যার কোনো জ্বালানির প্রয়োজন হয় না, এরপর এটি যে সত্যিই কাজ করে তা প্রমাণ করতে তিনি এটি নিয়ে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন।

ফিনল্যান্ডের প্রকৌশলী লুকাস শোমান প্রায় ২০০ দিন সময় নিয়ে ‘হেলিওস ১১’ নামে একটি ডিআইওয়াই সৌরচালিত ইয়াট তৈরি করেন, যার খরচ পড়েছিল আনুমানিক ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডলার। মেরিন প্লাইউড এবং ফাইবারগ্লাস দিয়ে তৈরি এই নৌকাটি ছাদের সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং একটি ৬ কিলোওয়াট বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে চলে।

রোদোজ্জ্বল দিনে, এই ইয়াটটি প্রায় ৭ নট গতিতে চলতে পারে এবং জানা গেছে যে এটি একদিনেই ২৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। এমনকি তুলনামূলক প্রতিকূল আবহাওয়াতেও এটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।

Advertisement

এরপর আসে আসল পরীক্ষা।
শোমান ‘হেলিওস ১১’ নিয়ে এক ফোঁটা জ্বালানি না পুড়িয়েই ফিনল্যান্ড থেকে একেবারে স্পেনের ইবিজা পর্যন্ত ৩,০০০ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন।

কোনো পেট্রোল নয়। কোনো ডিজেল নয়। শুধু সূর্যালোক থেকে ব্যাটারি চার্জ হয়েছে আর ইয়াটটি এগিয়ে চলেছে।
তিনি কেবল একটি সৌরচালিত নৌকাই তৈরি করেননি; এটিকে পুরো ইউরোপ জুড়ে চালনা করে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে গ্রিন এনার্জি আসলেই আমাদের কত দূর নিয়ে যেতে পারে।

ফিনল্যান্ডের Lukas Sjoman নিজের হাতে তৈরি করেছেন ১১ মিটারের একটা ইয়ট নাম Helios 11। মাত্র ২০,৭২৪ ডলার খরচে বানানো এই নৌকায় বসানো আছে ১০টা সাধারণ বাড়ির ছাদে ব্যবহারযোগ্য সোলার প্যানেল, যা একটা ২৪kWh ব্যাটারি চার্জ করে, আর সেই ব্যাটারি চালায় ৬kW এর একটা ইলেকট্রিক মোটর। ডিজেল নেই, পেট্রোল নেই শুধু রোদ।

এই ইয়টটা এখন পর্যন্ত ৩,০০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পাড়ি দিয়েছে সম্পূর্ণ সোলার পাওয়ারে — একফোঁটা জ্বালানি ব্যবহার না করেই। মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইলের একটা যাত্রায় তিনি হিসাব করে দেখলেন, শুধু ওই একটা ট্রিপেই বেঁচে গেছে প্রায় ৪৬ ডলারের পেট্রোল। সূর্য যখন ভালো থাকে, প্যানেলগুলো ৪,০০০ ওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ তৈরি করে — ফলে নোঙর ফেলে সাঁতার কাটতে কাটতেও ব্যাটারি ১০০% চার্জ হয়ে যায়।

জলজ প্রাণী রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব নৌযান: সৌরশক্তিচালিত নৌযান শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি আধুনিক প্রযুক্তি নয়, এটি জলজ পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সোলার বোট ব্যবহার করলে পানিতে ডিজেল/পেট্রোল মিশে পানি দূষণ হয়না, এবং প্রচলিত জ্বালানিচালিত ইঞ্জিনের তুলনায় শব্দ ও কম্পন অনেক কম হয়। ফলে নদীর বা সমুদ্রে থাকা মাছ, ডলফিন এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বাসস্থান ও জীবন রক্ষায় পরিবেশবান্ধব। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!