এক রাজা তার প্রিয় কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ভ্রমণ করেছিলেন। সেই নৌকায় অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে একজন দার্শনিকও ছিলেন। পানি দেখে কুকুরটি উৎসাহে খুব অস্থির হচ্ছিল এবং লাফালাফি করছিল।
নৌকার মাঝি মন খারাপ করে ভাবছিল যে, এমন চলতে থাকলে নৌকা যাত্রীদের নিয়ে ডুবে যাবে।
.png)
কিন্তু কুকুর তার স্বভাবজাত প্রকৃতির কারণে কিছুতেই থামছিল না।
এইরকম পরিস্থিতি দেখে, রাজাও রাগ করছিলেন কিন্তু কুকুরকে শান্ত করার জন্য কোনও উপায় তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
নৌকাতে বসে থাকা দার্শনিক আর থাকতে পারলেন না।
তিনি রাজাকে কাছে গিয়ে বললেন, "রাজা মশাই, যদি আপনি অনুমতি দেন, আমি এই কুকুরটিকে একটি বিড়াল করে দিতে পারি।"
রাজা অনুমতি দিয়ে দিলেন.......
দার্শনিক দুই জন যাত্রীর সাহায্য নিয়ে সেই কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দিলেন। কুকুরটি হাঁসফাঁস করতে করতে ভাসমান নৌকা ধরার চেষ্টা করতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর, দার্শনিক তাকে নৌকায় টেনে তুলে নিলেন। তারপর কুকুরটি গোপনে একটি কোণায় গিয়ে চুপ করে বসে রইল।
"সে এখন তার জীবনের মূল্য অনুভব করছিল।"
নৌকার অন্যান্য যাত্রীদের মত রাজাও সেই কুকুরের আচরণ দেখে প্রচণ্ড অবাক হলেন।
এবং রাজা দার্শনিককে জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কেন এখন একটি পোষা ছাগলের মত বসে আছে..?"
দার্শনিক বললেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে সমস্যায় না পড়ে... ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের সমস্যা বুঝতে রাজি নয়...!
" এই কুকুর যখন জলের ক্ষমতা ও নৌকার উপযোগিতা এবং নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারলো তখনই চুপ করে বসে গেল।"
শিক্ষণীয় : আমরা মানুষেরাই ঠিক একরকম...! নিজেদের অহংকার ও দাম্ভিকতায় আমরা অন্যদের জীবন অতিষ্ঠ করি। যখন নিজেদের ক্ষমতা ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারি, তখনই আমরা চুপসে যাই! তার আগে নয়!