বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারের নতুন করে বিতর্ক তোলার বিষয়টি নিছক শব্দের ব্যবহার নয় বলে মনে হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগরিকত্ব, অধিকার, প্রত্যাবাসন এবং একটি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ। সম্প্রতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে মিয়ানমারে কোনো জাতিগোষ্ঠী নেই। একই বিবৃতিতে বাংলাদেশ যে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকা দিয়েছে, তার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করার কথা জানিয়েছে দেশটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
প্রথম দৃষ্টিতে এই ঘোষণা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা অজুহাত, যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। কিন্তু একই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের পরিচয় অস্বীকার করা এবং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ প্রত্যাবাসনের মূল প্রশ্ন শুধু কতজনকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে তা নয়। তারা কী পরিচয়ে ফিরবেন, তাদের নাগরিকত্ব কী হবে, কোথায় বসবাস করবেন, কী অধিকার পাবেন এবং আবারও তারা নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হবেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
.png)
বাংলাদেশের অবস্থান এখানে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। রোহিঙ্গারা বাঙালি নন, তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বসবাস করা একটি স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে সম্প্রতি এই অবস্থান জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক পরিচয় রয়েছে এবং তাদের সেই পরিচয় নিয়েই দেশে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।
এই অবস্থানের গুরুত্ব বুঝতে হলে রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নটি গত কয়েক দশকে ধীরে ধীরে জটিল করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের মিয়ানমার নাগরিকত্ব আইন তাদের একটি বড় অংশকে কার্যত রাষ্ট্রহীন করে দেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নথিতেও বলা হয়েছে, ওই আইন রোহিঙ্গাসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষকে রাষ্ট্রহীনতার দিকে ঠেলে দেয় এবং পরবর্তীতে বৈষম্য ও বঞ্চনার ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ আজ মিয়ানমার যে প্রশ্ন তুলছে—‘রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী নেই’—তা কোনো নতুন বক্তব্য নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি রাষ্ট্রীয় বয়ানেরই পুনরাবৃত্তি। সমস্যা হলো, এই বয়ান প্রত্যাবাসনের প্রশ্নকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয় অস্বীকার করে তাকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিলে সেই প্রত্যাবাসন কতটা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই হবে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অবশ্য আছে। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো তালিকার ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের বিষয়ে তারা যাচাই সম্পন্ন করেছে এবং এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছে। রয়টার্সও জানিয়েছে, মিয়ানমার প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রত্যাবাসনের কথা বলেছে। এই স্বীকৃতিকে একেবারে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ এর মধ্য দিয়ে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে এসেছে, সেটি মিয়ানমারের নিজের যাচাই প্রক্রিয়াতেও উঠে এসেছে। ফলে তাদের সামগ্রিকভাবে ‘বিদেশি’ বা ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উপস্থাপনের বয়ান আরও দুর্বল হয়।
তবে এখানেই বাংলাদেশের সতর্ক হওয়ার জায়গা। ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে যাচাই করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া আর তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অতীতে মিয়ানমার যাচাইয়ের কথা বলেছে, প্রত্যাবাসনের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এমনকি একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একজন রোহিঙ্গাকেও নিরাপদ ও টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা তার বড় উদাহরণ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের জন্য সমঝোতায় পৌঁছালেও রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার অবস্থানও পরিষ্কার—ফেরত যাওয়া হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রত্যেক শরণার্থীকে নিজের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
এখানেই মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। বিবৃতিতে সংখ্যা, পরিচয় ও যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গারা কী নাগরিক অধিকার পাবেন? তাদের চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে কি না? সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে কি না? তাদের জমি ও বাড়িঘরের কী হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।
আরেকটি বড় প্রশ্ন নাগরিকত্ব। রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলোর একটি হলো তাদের নাগরিকত্বহীনতা। জাতিসংঘের বিভিন্ন নথিতে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং এর প্রয়োগের ফলে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরা হয়েছে। তাই শুধু ‘রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা’ হিসেবে কাউকে শনাক্ত করা যথেষ্ট নয়। একজন মানুষ নিজের বাড়িতে ফিরবেন কিন্তু যদি তিনি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না পান, ভোট দিতে না পারেন, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে না পারেন, জমির মালিকানা দাবি করতে না পারেন এবং আবারও কোনো প্রশাসনিক বা সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন—তাহলে সেই প্রত্যাবাসনকে কীভাবে টেকসই বলা যাবে? রোহিঙ্গাদের নিজেদের বক্তব্যও এই জায়গায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের মতামত তুলে ধরে বলা হয়েছে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের স্বীকৃতি তাদের কাছে মৌলিক শর্ত।
মিয়ানমারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এখানেও প্রশ্ন রয়েছে—‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? কে এই পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে? প্রত্যাবাসনের আগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কি রাখাইনের পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে পারবেন? ফিরে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে’ প্রত্যাবাসনের কথা বলা যথেষ্ট নয়।
রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতিও অত্যন্ত জটিল। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াই এবং বাস্তুচ্যুতি -সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখনো স্থিতিশীল নয়। ফলে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে প্রত্যাবাসনে সম্মত হওয়া উচিত হবে না।
বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত—আমরা প্রত্যাবাসন চাই। আমরা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাই কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে কয়েক বছর পর আবারও তাদের পালিয়ে আসতে হয়।
বাংলাদেশের জন্য এই অবস্থান শুধু মানবিক নয়, জাতীয় স্বার্থেরও প্রশ্ন। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের ২০২৫-২৬ যৌথ পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশও অনির্দিষ্টকাল এই সংকট বহন করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের এই চাপকে মিয়ানমার যেন প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একই সঙ্গে বাংলাদেশকে সহায়তা এবং মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ দিতে হবে।
মিয়ানমারের ‘বাঙালি’ বয়ানের জবাবও বাংলাদেশকে আবেগ দিয়ে নয় তথ্য ও ইতিহাস দিয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলে বারবার তুলে ধরতে হবে যে পরিচয় অস্বীকার করাই সংকটের অন্যতম মূল কারণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের পরিচয় প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নথিপত্র আরও জোরালোভাবে ব্যবহার করতে হবে। এর পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের প্রধান দায়িত্ব মিয়ানমারেরই। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ান এবং অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। কোনো একটি পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
বাংলাদেশের হাতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগও এসেছে। মিয়ানমার নিজেই ৩ লাখের বেশি মানুষকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বলতে পারে—যদি তারা রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হয়ে থাকে তাহলে তাদের পরিচয় ও অধিকার নিয়েও বাস্তবসম্মত সমাধানে আসতে হবে।
মিয়ানমারকে একই সঙ্গে এটিও বুঝতে হবে, রোহিঙ্গাদের পরিচয় অস্বীকার করে তাদের ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। কারণ মানুষ নিজের পরিচয় বিসর্জন দিয়ে নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে না। মিয়ানমারের সর্বশেষ বিবৃতিতে তাই একদিকে যেমন প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনার একটি জানালা খুলেছে, অন্যদিকে পুরোনো পরিচয়-অস্বীকারের রাজনীতিও আবার সামনে এসেছে। আমাদের দায়িত্ব হবে ইতিবাচক অংশটিকে কাজে লাগানো এবং ক্ষতিকর অংশের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।
রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’—এই বয়ান আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বাংলাদেশ তাদের পরিচয় তৈরি করেনি; তারা নিজেদের পরিচয় নিয়ে মিয়ানমার থেকে এসেছে। মিয়ানমার যদি সত্যিই তাদের ফিরিয়ে নিতে চায় তাহলে প্রথম শর্ত হওয়া উচিত তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় শর্ত হতে হবে নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বাস্তব ব্যবস্থা। তৃতীয় শর্ত হতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি। ৩ লাখের বেশি মানুষকে যাচাই করা হয়েছে—এটি যদি সত্যিকারের সদিচ্ছার প্রমাণ হয় তাহলে এখন পরবর্তী ধাপ কী, সেটি মিয়ানমারকে স্পষ্ট করতে হবে।
রোহিঙ্গারা নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাক এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু সেই ফেরত যাওয়া যেন আবার নতুন কোনো নির্বাসনের সূচনা না হয়। পরিচয় অস্বীকার, নাগরিকত্বহীনতা, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার পুরোনো বাস্তবতায় ফিরে যাওয়াকে প্রত্যাবাসন বলা যায় না। মিয়ানমারের সামনে তাই এখন একটি পরিষ্কার পছন্দ রয়েছে—পুরোনো বয়ান আঁকড়ে ধরে সময়ক্ষেপণ করা নাকি বাস্তব সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। ‘রোহিঙ্গারা, রোহিঙ্গাই’ তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। আর এই পথের শুরু হতে হবে পরিচয় অস্বীকার দিয়ে নয়, পরিচয় ও অধিকার স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।
-লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট