আপনি হাসপাতালের টয়লেট থেকে শুরু করে কিচেন পর্যন্ত সবকিছুর খোঁজখবর নিচ্ছেন।
আদ দ্বীন হাসপাতাল বিষয়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপের জন্য আপনি প্রশংসিত হয়েছেন।
চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। আহত চিকিৎসকদের দেখতে হাসপাতালে ছুটছেন। এত কিছু করেও খুব বেশি উন্নতি দৃশ্যমান নয়। আপনি নিশ্চয়ই অসন্তুষ্ট এবং ক্লান্ত।
আমরা চিকিৎসকসমাজ অনেক সীমাবদ্ধতার পরেও করোনার সময় যেমন ছিলাম বর্তমানেও জনগণের চিকিৎসায় সব সময় পাশে আছি। অসুস্থ রোগীদের রেখে আমরা কখনো পালিয়ে যাইনি। আমাদের মধ্যে অনেকেরই নৈতিকতার প্রশ্ন আছে। আমাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারবে জনগণ। তারপরেও আমরা বলতেই পারি ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসা আমরাই দিচ্ছি।
.png)
আপনার হাতে বিকল্প কিছু নেই। ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসার ভার বা দায়িত্ব প্রতিবেশী কোন রাষ্ট্র নিতে পারবে না। অতএব অভিভাবক হিসাবে চিকিৎসক সমাজের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আপনার। একই সময়ে ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আপনার।
আপনার হাতে চেরাগ বাতি নেই। এই চিকিৎসক সমাজকে সাথে নিয়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যেতে হবে আপনাকে।
আমরা আপনাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সেটি অবশ্যই আমাদের নিরাপত্তা এবং সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।
সবশেষে ছোট্ট একটি আবদার:দয়া করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের একটু খোঁজখবর নিন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে উনাকে একটু জিজ্ঞেস করুন নিরাপত্তা জনিত কারণে চিকিৎসকগণ হাসপাতালে আসতে না পারলে হাজিরা কেমন করে নিশ্চিত করা যাবে। চিকিৎসাই বা কিভাবে সম্ভব হবে? সম্ভব হলে কথোপকথনটি অনলাইন করে দিয়েন। আমরা আগ্রহ নিয়ে দেখব।
আপনার সুস্থতা ও সফলতা কামনা করি।
জনগণের প্রতি অনুরোধ।
আপনাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য সোচ্চার হোন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দায়বদ্ধ করুন। তবুও চিকিৎসকদেরকে ছুড়ে ফেলবেন না। আপনাদের সাথে ভালো খারাপ ব্যবহার যাই করুক আপনার অসুস্থতায় এদেশের চিকিৎসকদের ছাড়া আর কাউকে আপনি পাশে পাবেন না। ( মুষ্টিমেয় কিছু ধনাঢ্য পরিবার ব্যতিক্রম) এদেশের চিকিৎসক আপনাদেরই সন্তান। নিজেদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় সোচ্চার হোন। সবাই সুস্থ থাকুন।
লেখক : অধ্যাপক ডা. মো ছায়েদুল হক, চিকিৎসক ও সমাজ চিন্তক
রিং রোড, আদাবর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ,ঢাকা। ফোন: 019 2096 2512