ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খবর ]

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

দেড় দশকে বাংলাদেশে গুমের ঘটনা সাত শতাধিক
ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ৩০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ
গুম হওয়া পরিবারগুলোর প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর (www.facebook.com/p/Maayer-Daak) প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের একটি তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। তবে পরিবারগুলোর জন্য শুধু টাক

গুম শুধু ব্যক্তির জীবনের প্রতি আঘাত নয়, এটি গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।  জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। 

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।  আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক—অতীতের সব গুমের ঘটনার সত্য উদঘাটন, দায়ীদের বিচার নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটার মতো শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, তাদের স্মরণ এবং স্বজনদের প্রতি সংহতি জানানোই এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।

Advertisement

 ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের 'জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া থেকে সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন'-এ সই করেছে। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদে সই নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটি উদ্যোগ।  আশার কথা হলো, অন্তর্বর্তী সরকার গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন করেছে। কমিশনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া, গুম কমিশন বহুল সমালোচিত আয়নাঘর, টর্চার সেল, গোপন বন্দীশালার বেশকিছু জায়গার সন্ধান পেয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের অভিযোগ নিয়ে গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘ সময় পর পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতা মাইকেল চাকমাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মুক্ত হওয়ার পর গুমের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের ওপর চলা নিপীড়ন ও গোপন বন্দিশালার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অধিকার এবং সম্প্রতি সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত গুমের শিকার হয়েছেন ৭০৯ জন। এর মধ্যে ২০০৯ –২০১৩ সালে গুমের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এসময় গুমের শিকার হন মোট ৫৩ জন। আর ২০১৪–২০১৮ পর্যন্ত গুমের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়।  এ কয়েক বছরে গুমের শিকার হয়েছেন ৩৬০ জন। এরপর ২০১৯ – ২০২৩ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপ এবং ২০২১ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর গুমের বার্ষিক সংখ্যা কিছুটা কমলেও সেসময় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ঐ সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন ১০৫ জন। 

গুম হওয়া পরিবারগুলোর প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর (www.facebook.com/p/Maayer-Daak) প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, সরকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের একটি তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। তবে পরিবারগুলোর জন্য শুধু টাকা নয়, আইনি স্বীকৃতিও জরুরি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এস এম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!