ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

৫০ প্রজাতির গাছ নিয়ে কুবির ফার্মেসী বিভাগের ঔষধি বাগান

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০ প্রজাতির গাছ নিয়ে কুবির ফার্মেসী বিভাগের ঔষধি বাগান
ডেইলি বাংলাদেশ

মানুষের চিকিৎসার ইতিহাসে ঔষধি গাছের ভূমিকা অত্যন্ত পুরোনো। আধুনিক হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশের বহু আগে অসুস্থতার চিকিৎসায় মানুষ প্রকৃতির বিভিন্ন উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করত। গাছের পাতা, ছাল, শিকড়, ফুল, ফল ও বীজ ব্যবহার করে তৈরি হতো নানা ধরনের ভেষজ উপকরণ।

প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ এবং দক্ষিণ এশিয়ার লোকজ চিকিৎসায় নিম, তুলসী, হরীতকী, বহেড়া, আমলকী ও অর্জুনসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতির পরও ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বরং বিভিন্ন উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান ও সম্ভাব্য ঔষধি কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে। ফলে প্রাচীন ভেষজ জ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশেও ঔষধি গাছ ব্যবহারের ঐতিহ্য বহু পুরোনো। গ্রামাঞ্চলে এখনো বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা ভেষজ জ্ঞানের ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ প্রাথমিকভাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করেন।

এই ঐতিহ্য ও ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ঔষধি বাগান। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাগানটি তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরের বছর থেকে বাগানের সৌন্দর্যায়ন ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের কাজ শুরু হয়। ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী সংগঠন ফার্মেসি সোসাইটির উদ্যোগে ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হয় বাগানটি।

বর্তমানে এ বাগানে ৫০টিরও বেশি ঔষধি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে হাসনাহেনা, হরীতকী, চুইঝাল, কর্পূরদাম, পেনসিল ক্যাকটাস, আমলকী, তেজপাতা, ডালিম, দারুচিনি, তেঁতুল, সাদা জবা, নিম ও অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যবহারিক শিক্ষায়ও বাগানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াবিদ আল ইজাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে ঔষধি উদ্ভিদের গুণাগুণ, সক্রিয় উপাদান ও ব্যবহার সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাগানে সরাসরি উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সুযোগ শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।

তার মতে, ঔষধি বাগান তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব উদ্ভিদজগতের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়ানো হলে শিক্ষা, গবেষণা ও ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণে বাগানটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করলেই তা সব ক্ষেত্রে নিরাপদ—এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো উদ্ভিদ কীভাবে, কতটুকু এবং কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যাবে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ভুল বা অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্ষতির ঝুঁকিও থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে বাগানে সব ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু গাছ রোপণ করেন। ভবিষ্যতে বাগানের পরিসর বাড়ানো, আরও প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি গাছের পরিচিতি ও ঔষধি গুণাবলি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বাগানটির প্রধান সমস্যা হলো গাছের যথাযথ বৃদ্ধি ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও নিরাপত্তার অভাবে অনেক গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া না জেনে পাতা বা ফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকেই ছোট ও সংবেদনশীল গাছের ক্ষতি করছেন।

তিনি জানান, সার্বক্ষণিক পরিচর্যার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। তবে বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুবিধার বিষয়টি জানানো হলে তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে নতুনভাবে একটি মেডিসিনাল গার্ডেন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!