ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

জবির ছাত্রী মেসে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:১৪, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জবির ছাত্রী মেসে র‍্যাব পরিচয়ে অপহরণের চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বর্ষা খাতুনকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন র‍্যাব সদস্যরা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজারের ওই মেসে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তিনি বলেন, প্রথমে র‍্যাবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, একজন শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব।

সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক জানান, সকালে এক শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র‍্যাব পরিচয়ে কয়েকজন লোক আসার কথা জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে ওই ব্যক্তিরা প্রথমে ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান। এরই মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।

অধ্যাপক তারেক বিন আতিক বলেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীকে গাড়িতে দেখতে পান। তখন শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে অবহিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

তিনি জানান, পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানানো হয়নি। তার দাবি, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও মোবাইল নম্বর জানতে চাইলে তারা তা দিতে রাজি হননি বলেও জানান অধ্যাপক তারেক। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও অবহিত করা হয়।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র‍্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন বলে তিনি জানান। পরে পুলিশ জানতে পারে, মামলাটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীকে না নিয়েই র‍্যাব সদস্যরা চলে যান।

মামলাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান ওসি আনোয়ার।

জানা গেছে, বর্ষা খাতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তার বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এ আর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!