ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। নিয়ম অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। এতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কারও মতে, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন আয়োজনকে বাড়তি ঝামেলা হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
.png)
এর মধ্যে এবারের ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটেও কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি একাডেমিক ক্যালেন্ডারেও ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে।
তবে ডাকসুর বর্তমান নেতারা বলছেন, কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হলেও নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা হবে। ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান নেতারা মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন।
ডাকসুর বর্তমান জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, সংবিধানে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তারা সেই পথে যেতে চান না। বরং নির্ধারিত সময়েই বর্তমান কমিটির দায়িত্ব শেষ করে নতুন নির্বাচনের আয়োজন চান।
তিনি জানান, ১২ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। ওই দিন দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হবে।
এস এম ফরহাদের ভাষ্য, তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হলে সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি এক ঘণ্টার জন্যও মেয়াদ বাড়াতে চায় না। তারা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময়মতো প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত দিনেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে নতুন নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি।
এ অবস্থায় বাজেটের কারণে তফসিল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে ঘাটতি বাজেট থেকে নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাজেট কোনো বড় বাধা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আবেদন করলে নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও জানিয়েছেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বাজেট রাখা হয়নি। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ঘাটতি বাজেট থেকে এর ব্যয় বহন করা হবে।
২০১৯ সালের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারও আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। ফলে এবারও সময়মতো নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমান ডাকসু কমিটি এবং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। নির্বাচনে নতুন করে কী কী বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন, সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা কী—এসব বিষয় আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে ঠিক কবে নাগাদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য।