ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ইবিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইবিতে সংঘর্ষের আশঙ্কা, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের আশপাশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। বৈঠকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের এক নেতার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পর ওইদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অন্যদিকে জিয়া মোড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির।

পরে প্রধান ফটক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেল ৩টায় উভয় পক্ষের বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রধান ফটক এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর জিয়া হলে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাস, প্রধান ফটক, ক্যান্টিন ও আশপাশের এলাকায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমরা আবারও বসেছি। এমন পরিস্থিতি তৈরি বা তৈরির চেষ্টা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যেকোনো পদক্ষেপে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় নিরাপদ ক্যাম্পাসের পক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রদল সচেতন থাকবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছাত্রদল কাজ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। ছাত্রসংগঠনগুলোর, বিশেষ করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। বর্তমানে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আমাদের কিছু পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইবি থানা-পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!