আচ্ছা ৯০’র দশকে কী এমন ছিল? শতভাগ উত্তরই হয়তো আসবে, না। কারণ তখন বোঝাপড়া-বিশ্বাস ছিল বেশি। সিঁকেভাগও ছিল না অবিশ্বাস-সন্দেহ। এমনকি কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে, এ ধারণাটাই কারো মধ্যে ছিল না। শুধু ছিল সংসার বাঁচানোর, স্ত্রী-স্বামী-সন্তান আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার তুমুল আগ্রহ। যে আগ্রহের সূত্রপাত, তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকে। আর সে কারণেই বোধ হয়, দূরে থেকেও সব সময় প্রিয়জনরা কাছে থাকতো অলিখিত এক স্পর্শে। বছরের পর বছর না দেখা করেও হোয়াটসঅ্যাপ-ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কল না করে অপেক্ষায় থাকতো লাল-নীল-হলুদ খামে মোড়ানো একটি চিঠির। যে চিঠিতে ছিল আদরমাখা সৌরভ।
আবার এমনও দেখা গেছে, মনের মানুষ দূর থেকে যাচ্ছে, তাকে লুকিয়ে এক নজর দেখতে সে কী প্রাণান্তর অপেক্ষা। সেই সঙ্গে মনের ভেতর বাজতো শংকা বার্তা, এই বুঝি কেউ দেখে ফেলল! এখনকার মতো তখন হয়তো কাঁচ আটা ঠাণ্ডা ঘরে বসে কেউ বিদেশি খাবার খেতো না, দামি দামি উপহার কিনে দিত না। কিন্তু দূরের গঞ্জ থেকে দু’টাকার মুড়ি-মুড়কি আর সামান্য আলতা-চুড়িতেই হাসির ফোয়ারা বইতো ললনাদের মুখে।
.png)
আমরা কি আসলেই অনেক আধুনিক হয়েছি? নাকি অনভূতিগুলোকে বড্ড যান্ত্রিক করে ফেলেছি? এখন আর সন্তানরা তাদের বাবা-মাকে কাছে রাখতে চান না, পাঠিয়ে দেন বৃদ্ধাশ্রমে। আচ্ছা, ৯০ দশকেও কি এমনটা ছিল?
না, মোটেই আমি প্রযুক্তির দোষ দিচ্ছি না। বলছি, এর সঠিক ব্যবহারের। প্রিয়জনকে ‘সঠিক চোখে’ মূল্যায়নের। তাহলে দেখবেন, জীবন বায়োস্কোপের মতো অতটা না হলেও যথেষ্ট রঙিন ও সুন্দর। তখন আর আপনাকে দুঃখ ভুলতে চোখ মুছে সোশ্যাল মিডিয়ায় লগইন করতে হবে না। কষ্টে থাকা সত্ত্বেও দাঁতে দাঁত চেপে ছবির ক্যাপশনে মেকিভাবে লিখতে হবে না, বিন্দাস আছি।
ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান
গণমাধ্যমকর্মী ও গীতিকার