ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

এক মাসের জন্য শেকলবন্দি হচ্ছে শয়তান

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:১২, ২ এপ্রিল ২০২২
এক মাসের জন্য শেকলবন্দি হচ্ছে শয়তান
ফাইল ছবি

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা রোজার প্রতিদান নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রমজানে রোজাদার বান্দার নেক আমল করার সুবিধার্থে শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শেকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, তার একটি দরজাও খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, এর একটি দরজাও বন্ধ হয় না এবং একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, হে সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি! অগ্রসর হও, হে অসৎকর্মপরায়ণ! থেমে যাও। আল্লাহ (রমজানের) প্রতিটি রাতে অনেক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।’ (সহিহ বুখারি: ১৮৯৮, ১৮৯৯,৩২৭৭; মুসলিম: ১০৭৯)

মানুষ পাপ করে তিন শক্তি দ্বারা তাড়িত হয়। মানুষের নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তি, তার খাসলত তাকে দিয়ে পাপ করায়। আবার বাইরে থেকে মানুষকে পাপের প্ররোচণা দিয়ে থাকে শয়তান, দুষ্ট প্রকৃতির জিন এবং খারাপ মানুষেরা। রমজানের রাত শুরু হওয়া মাত্রই মহান আল্লাহ শয়তান ও দুষ্ট জিনদের বন্দি করে ফেলছেন। তাই শয়তান ও দুষ্ট জিনরা রমজানে মানুষকে পাপ কাজের কোনো প্ররোচনা দিতে পারছে না বা পারবেও না। পাপের এক তৃতীয়াংশ শক্তি বন্দি থাকার কারণে রমজানে পাপের পরিমাণ অনেক কমে আসে।

Advertisement

মানুষকে দিয়ে পাপ করানোর জন্য উন্মুক্ত থেকে যাচ্ছে তার নিজের কুপ্রবৃত্তি ও বাইরের পাপী মানুষগুলো। এ দু’শক্তি কিন্তু রমজান মাসেও মানুষকে পাপ কাজে প্ররোচিত করে থাকে। আমরা যদি ভোজনবিলাসী না হয়ে, মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের প্রকৃত সুন্নত এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নুরানি তরিকা অনুসরণ করে ভোজন সংযমী হয়ে সীমিতভাবে সেহরি ও ইফতার করি তাহলে তা আমাদের কৃপ্রবৃত্তিকে দুর্বল করে দেবে এবং সুকুমারবৃত্তিগুলোকে বিকশিত করে দিবে।

রমজান সংযমের মাস, সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। কিন্তু আমরা রমজানের মূল বার্তাকে ভুলে গিয়ে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের অনুসৃত পথ পরিহার করে সেহরি ও ইফতারে এতটাই ভোজনবিলাসী, খাদ্য ভোগী হয়ে উঠি যা রমজানের সংযম, সাধনা ও ত্যাগের বার্তাকে ভুলিয়ে দেয়। ফলে আমাদের কুপ্রবৃত্তি দুর্বল না হয়ে আরও হিংস্র ও পাশবিক হয়ে উঠে। কাম, লিপ্সা, রাগ, মোহ আরও বেড়ে যায়। আমাদের সুকুমারবৃত্তিগুলো বিকশিত না হয়ে আরও নিস্তেজ হয়ে যায়। আত্মা বলীয়ান হয়ে পরমাত্মার নিকটবর্তী না পৌঁছে আরও দূরে ছিটকে যায়।

যেহেতু শয়তান বন্দি থাকছে, ভোজন সীমিত হচ্ছে, তারাবি ও তাহাজ্জুদের কারণে রাত জাগা হচ্ছে স্বভাবতই পাপ হ্রাস পাচ্ছে, সেহেতু রমজানের শুভাগমন উপলক্ষে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যারা ভালো হতে চাও তারা এগিয়ে যাও।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানে কুপ্রবৃত্তি, জিন ও মানুষ শয়তানের প্রভাবলয় থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!